যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নতুন অচলাবস্থায় পড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথে ফের হামলা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) লোহিত সাগরের প্রবেশপথ এবং ওমান উপসাগরে আলাদা নৌযানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রণালীতে সংঘাত বৃদ্ধির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা দিয়েছে।
এ খবর জানিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একই দিনে ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই জানিয়ে দিয়েছেন, জব্দ করা সম্পদ মুক্তকরণ এবং গাজা-লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সংঘাত অবসানে ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে না নিলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় ও কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব এল-মানদেব প্রণালীতে মিসরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ নামে একটি ছোট পণ্যবাহী জাহাজে সন্দেহভাজন হুথি হামলায় চারজন নাবিক নিহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে যাওয়া হুথিবিরোধী সামরিক গোষ্ঠীর দুই সদস্যও এ সময় প্রাণ হারান। চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনি হুথিদের হামলায় নৌযানে প্রাণহানির এটিই প্রথম ঘটনা।
ইয়েমেনের হুথি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ঘোষিত নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজে এ হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের দায়ে ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটির স্টিয়ারিং গিয়ার অচল হয়ে পড়ে।
সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা দেখা না গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তি বা আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ইরান এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের উৎপীড়ক নয়। তবে এর পাশাপাশি তেহরানকে কঠোর আঘাত হানার বা অর্থনৈতিকভাবে চেপে ধরার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার কথা জানিয়েছেন। আইআরজিসির উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, তাদের বাহিনী প্রয়োজনে শত্রুর মাটিতে গিয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করছে।
এদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৯১ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিতকারী এসব জলপথ অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চরম উদ্বেগের ছায়া পড়েছে।