১২ আগস্ট বুধবার এক বিরল ও ঐতিহাসিক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের কোটি কোটি মানুষ। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এটিই প্রথম বলয়গ্রাস বা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। অন্যদিকে ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্যে দৃশ্যমান এটিই সবচেয়ে গভীর আংশিক সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে। গ্রহণের পথটি রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকে শুরু হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা, গ্রিনল্যান্ড অতিক্রম করে আইসল্যান্ড, স্পেন ও পর্তুগাল হয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, স্পেন ও আইসল্যান্ডের বড় একটি অংশ এবং পর্তুগালের কিছু অঞ্চলে শতভাগ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। স্থানীয় সময় রাত ৮:২৬ থেকে ৮:৩৩ মিনিটের মধ্যে এই এলাকাগুলোতে সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে ঢেকে যাবে এবং ক্ষণিকের জন্য অন্ধকার নেমে আসবে।
যুক্তরাজ্যে সূর্য শতভাগ ঢাকা না পড়লেও দেশের পশ্চিম অঞ্চলের বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। লন্ডনে প্রায় ৯২ শতাংশ এবং স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে ৯৩ শতাংশ সূর্য ঢেকে যাবে। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬:১৭ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে ৭:১৩ মিনিটে চূড়ান্তে পৌঁছাবে এবং রাত ৮:০৬ মিনিটে শেষ হবে। এছাড়া নরওয়ের অসলো ও ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে প্রায় ৮৩ শতাংশ গ্রহণ দেখা যাবে।
খালি চোখে না দেখার কড়া সতর্কতা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কখনোই খালি চোখে বা সাধারণ সানগ্লাস পরে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়, এতে স্থায়ীভাবে চোখের ক্ষতি বা অন্ধত্ব হতে পারে। গ্রহণ দেখার জন্য সার্টিফাইড সোলার ফিল্টার চশমা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কারো কাছে বিশেষ চশমা না থাকলে ঘরোয়া উপায় যেমন শাক-সবজি ধোয়ার ছিদ্রযুক্ত পাত্র ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে কাগজের ওপর সূর্যের প্রতিবিম্ব ফেলে নিরাপদে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। ২০১৭ সালের সূর্যগ্রহণের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চশমা ছাড়া খালি চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন, যা পরবর্তীতে একটি সতর্কতামূলক উদাহরণ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীদের উৎসাহ ও মহাজাগতিক উপহার: এই সূর্যগ্রহণ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সোসাইটি ফর পপুলার অ্যাস্ট্রোনমির সহ-সভাপতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. মেগান আরগো জানান, গ্রহণের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা 'করোনা' নিয়ে গবেষণা করার অসাধারণ সুযোগ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে সূর্যের ১১ বছরের সৌর চক্র ও এর রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হয়। ১৯১৯ সালের সূর্যগ্রহণের মাধ্যমেই বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
আজ রাতের এই মহাজাগতিক বিস্ময়ের পর আকাশের আরও দুটি আকর্ষণ অপেক্ষা করছে। আজ ১২ ও ১৩ আগস্ট মধ্যরাতে আকাশে দেখা মিলবে বিখ্যাত 'পার্সেইড মেটিওর শাওয়ার' বা উল্কাপাতের। এছাড়া ঠিক দুই সপ্তাহ পর, আগামী ২৮ আগস্ট ভোরে দেখা যাবে একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, যা বায়ুমণ্ডলের আলোর প্রতিফলনের কারণে লালচে রঙের 'ব্ল্যাড মুন'-এ রূপ নেবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান