পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সাত দশমিক সাত মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই কম্পন ও এর পরবর্তী কয়েক ডজন আফটারশকের পর অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাতে এই কম্পন অনুভূত হয়। তীব্র ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির বেশ কয়েকটি উপকূলে এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। অবশ্য ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রে থাকা ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরের উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, বন্দর শহরটির আশপাশে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অন্তত দুইজন আটকা পড়ে আছেন।
তবে রয়টার্সকে ফাতুর রহমান জানান, ভূকম্পনের উপকেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল ‘নাগেকেও’-তে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো পৌঁছাতে পারেনি। সেখানকার যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে সড়কপথে নাগেকেও পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় আরেকটি উদ্ধারকারী দল ফেরিযোগে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, নাগেকেও অঞ্চল থেকে প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু বসতবাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডেস লাকা লেনা এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার কারণে অনেকে বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। এতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পূর্ব নুসা তেঙ্গারার ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা বলেন, ভূমিকম্পটি অত্যন্ত প্রচণ্ড ছিলো। আমরা পরিবারের ১৩ জন সদস্য বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। কম্পন অনুভব করা মাত্রই নিজেদের বাঁচাতে সবাই আতঙ্কে বাইরে দৌড়ে বেরিয়ে আসি।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর চারটা ৫৮ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে প্রথম কম্পনটি তৈরি হয়। এরপর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক রেকর্ড করা হয়। সংস্থাটি আরও মনে করিয়ে দেয়, ১৯৯২ সালেও এই একই এলাকায় সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া অত্যন্ত ভূমিকম্প-প্রবণ একটি দেশ। টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।