যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়াবক্তব্যে শীর্ষ ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এ কথা জানান।

সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যে গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, তেহরানের আটকে থাকা বা ফ্রিজ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং সব ধরনের সামরিক হুমকি ও অভিযান চিরতরে বন্ধ করা।

Iran War 03
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বে তা দ্রুত ভেস্তে যায়। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো সরু এই জলপথটি দিয়ে।

সমঝোতা চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার তৈরি হলে গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চুক্তিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এটি স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

Iran War 01
মূল সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি ছিল, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় আলোচনার টেবিলে আসার কথা ছিল। তবে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির কোনো লক্ষণ না থাকায় ইরান এখন তাদের মূল নীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তেহরান এখন থেকে পুরোপুরি আক্রমণাত্মক কৌশল অবস্থান গ্রহণ করবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স-প্রেস টিভি