ইয়েমেনি বাহিনীর দখলে আল-খোখা শহর, অগ্রসর হচ্ছে আল-মোখার দিকে

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দেশটির হুদাইদা প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর আল-খোখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা এবং সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একইসঙ্গে আল-মোখা বন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়ারও খবর দিয়েছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুড।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে পার্সটুডে জানায়, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দ্রুত অগ্রসর হয়ে আল-খোখার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইয়েমেনি বাহিনী। সৌদি সমর্থিত ভাড়াটে মিলিশিয়ারা হাইস ছেড়ে যাওয়ার পর সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা।

এদিকে, খালেদ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইয়েমেনি বাহিনী আল-নার পর্বতমালায় পৌঁছেছে এবং সেখানে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে পার্সটুড আরও জানিয়েছে, আল-মোখা বন্দরের পূর্বদিকে অবস্থিত আল-নার পর্বতমালার আশপাশে সৌদি বিমানবাহিনী বোমাবর্ষণ করছে। ইয়েমেনি বাহিনী যাতে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানের দিকে আরও অগ্রসর হতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, কয়েকটি আরব গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তাইফ অঞ্চলে অবস্থিত কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটির আশপাশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তবে এসব ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াই? 

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। লোহিত সাগরের তীরবর্তী এই অঞ্চল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যাতায়াত করা যায়। ফলে হুদাইদা থেকে দক্ষিণে আল-খোখা ও আল-মোখা পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ যে কোনো পক্ষের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিম উপকূল হয়ে ওঠে সংঘাতের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। একদিকে হুথি বাহিনী, অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো—দুই পক্ষই এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করেছে।

বিশেষ করে আল-খোখা ও আল-মোখা উপকূলীয় বন্দর ঘিরে নিয়ন্ত্রণ মানে লোহিত সাগরের দিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক করিডোরে অবস্থান শক্ত করা। তাই হাইস থেকে আল-খোখা হয়ে আল-মোখার দিকে কোনো পক্ষের অগ্রসর হওয়ার খবরকে দেখা হচ্ছে পশ্চিম উপকূলে শক্তির ভারসাম্য বদলের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে।