‘পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসতে তোড়জোড় ইরানে, সংসদে বিল

চলমান মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেই ইরানে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে আসার দাবি জোরালো হচ্ছে। এনপিটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে এবার দেশটির পার্লামেন্টে বিল জমা দিয়েছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

রোববার পার্লামেন্টের উন্মুক্ত অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় আইনপ্রণেতা হোসেইন-আলি হাজি দেলিগানি জানান, বিলটি ইতোমধ্যেই পার্লামেন্টের প্রিসাইডিং বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি ‘ট্রিপল আর্জেন্ট’ বা সর্বোচ্চ জরুরি প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাজি দেলিগানি বলেন, বিলটি উন্মুক্ত অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের অনুমোদন প্রয়োজন।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শত্রুপক্ষের দুবারের আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে এনপিটির সদস্য হিসেবে থাকা ইরানের জন্য আর লাভজনক নয়। বরং এতে দেশটির ক্ষতি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরস ইরানের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিও উল্লেখ করেন হাজি দেলিগানি। তার ভাষ্য, ইরানকে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ইরান নিজেদের বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে।

তবে ইরানের পারমাণবিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই।

শনিবার তিনি বলেন, ইরান এখনও তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার না করার নীতিতে অবিচল রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের জবাবে এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আইএইএর পরিদর্শন ব্যবস্থার সঙ্গে ইরানের কথিত অসহযোগিতার অভিযোগে দেশটির বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলো ৩৫ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরসে একটি প্রস্তাব পাস করানোর পর রেজাই এ মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে আইএইএর দাবির ভিত্তিতে যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে রাশিয়া ও চীন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইরান বহু বছর ধরেই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য অস্ত্র তৈরি নয়। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বক্তব্যেও সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে তেহরানের এমন অবস্থানের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।