ককপিটে কুঠারের আঘাতে পাইলটকে হত্যাচেষ্টা

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড-১০৭৩ ফ্লাইটে মধ্যআকাশে ঘটে গেল এক রোমাঞ্চকর ও হাড়হিম করা ঘটনা! উড্ডয়নরত বিমানে আচমকা কুঠার হাতে মূল পাইলটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন বিমানটির কো-পাইলট। ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রু বোঝাই পুরো উড়োজাহাজটিকে ক্র্যাশ করিয়ে এক ভয়াবহ ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য! তবে পাইলট, যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের অসম সাহসিকতায় ভেস্তে গেছে সেই আত্মঘাতী চক্রান্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শনিবার নিশ্চিত করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে একটি প্রত্যক্ষ ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবেই শনাক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্য মতে, অভিযুক্ত ওই সহকারী পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি, যিনি ওমানের নাগরিক। বিমানে জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য ককপিটে রাখা ‘ক্র্যাশ এক্স’ বা কুঠার দিয়ে তিনি মূল ক্যাপ্টেনের ওপর হঠাৎ হামলা চালান এবং বিমানটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা করেন।

Pitol 2
ফ্লাইটর্যাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে একলফে ১৬,৬২৫ ফুট নিচে নেমে আসে! মধ্যআকাশে মৃত্যুভীতি চেপে বসলেও বিমানে থাকা যাত্রী এবং ক্রুরা বীরত্বের সাথে ঝাপিয়ে পড়ে ওই সহকারী পাইলটকে কাবু করে ফেলেন।

ককপিটে যখন তাণ্ডব চলছিল, ভাগ্যক্রমে ওই বিমানেই সাধারণ যাত্রী হিসেবে সফর করেন ফ্লাইদুবাইয়েরই একজন রিজার্ভ পাইলট! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করান।

Pitol
পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘাতক সহকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করে এবং বৃহস্পতিবার তাকে আবুধাবিতে হস্তান্তর করা হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ওই পাইলট উগ্র ইসলামপন্থীদের দ্বারা মগজধোলাইয়ের শিকার হয়েছিলেন এবং এটি আত্মঘাতী চেষ্টা ছিল।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের অংশগ্রহণে এই ঘটনার পেছনে কার কার হাত ছিলো, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চলছে। আমিরাত সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স