ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিটে কুঠার দিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো ওমানি পাইলট হামাম আল-হামামির ভয়াবহ ও বিতর্কিত অতীত নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সিএনএন’র এক্সক্লুসিভ অনুসন্ধানে জানা গেছে, উগ্র চরমপন্থী মতাদর্শ ও কট্টর ভাবধারার কারণে গত বছরই ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা (ওমান এয়ার) থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল তাকে!
এমনকি ওমান এয়ারে পাইলট ট্রেনিংয়ের সময় চরমপন্থার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাকে বিমান উড্ডয়ন থেকে সরিয়ে অন্য পদে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি মাত্র আট মাস আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। একটি দেশের জাতীয় এয়ারলাইন্স থেকে উগ্রবাদের দায়ে ছাঁটাই হওয়ার পরও কীভাবে তিনি ইসরাইলগামী ফ্লাইটের রুটে পাইলট হিসেবে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার ঠিক ৯ ঘণ্টা পর হ্যাকিং বা আগে থেকে সিডিউল করে রাখা পোস্টের মাধ্যমে হামলাকারী পাইলটের মুছে যাওয়া লিঙ্কডইন ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে কিছু রোমহর্ষক ও বিতর্কিত বার্তা প্রকাশিত হয়।
সেখানে একটি ভিডিও ক্লিপে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরাইলি এয়ারলাইন্স ‘এল আল’-এর বিমানগুলোর ওপর ফোকাস করা দেখা যায়।
ভিডিওর শেষে কুখ্যাত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রয়াত প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং সাত সিআইএ কর্মকর্তাকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় হত্যাকারী হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাবির ছবি যুক্ত ছিল! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিশ্লেষণ করা তাঁর প্রায় তিন হাজার মুছে ফেলা টুইট ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত কট্টরপন্থী, নারীব বিদ্বেষী এবং কর্মজীবী নারীদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ পোষণ করতেন।

ওমান একটি দেশ যারা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এমন একটি দেশের নাগরিক কীভাবে ইসরাইলের মতো কঠোর নিরাপত্তার দেশে বিমান নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, শিন বেট এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে কথা বলেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দুবাইতে পৌঁছানোর পর সৌদি আরব থেকে হস্তান্তরিত ওই হামলাকারী পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদে সরাসরি অংশ নিচ্ছে ইসরায়েলি ও আমিরাতি গোয়েন্দা দল।
আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, ককপিটে কুঠার চালিয়ে ১৭০ জনের প্রাণ নেয়ার এই আত্মঘাতী অপচেষ্টাকে কড়া সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই বিচার করা হবে।
