ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান এখনো শেষ হয়নি!

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্য অর্জন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। তেহরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যে কোনো নতুন হামলায় হিজবুল্লাহ ইরানের সঙ্গে যোগ দিলে তাদের ওপর চরম আঘাত হানা হবে।

রোববার ১৯৫৬ সালের সুয়েজ যুদ্ধে নিহত ইসরাইলি সেনাদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে কাটজ বলেন, ইরানের বিষয়ে আমাদের মিশন এখনো শেষ হয়নি। তেহরান আবার পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা অন্যান্য মারাত্মক পদক্ষেপের সাথে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত ও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কাটজ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সম্ভাব্য সব হুমকি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে ইসরায়েলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি সোজা জানান, গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরায়েল যেসব নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করে রেখেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতীয় ঐক্যের আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে তর্ক বা দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যখন ঝুঁকির মুখে, তখন আমাদের বিভেদ ভুলে এক হতে হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই হুমকি এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ১২০ আসনের নেসেটে দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে নতুন সরকার গঠনের জন্য বেছে নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের আলোচনায় ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটকে সমর্থনের সুপারিশ করেছেন, আর নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ৪৬ জন। সাবেক সেনাপ্রধান ও সেন্ট্রিস্ট ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা আইজেনকোট রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষমতা হাতে পাবেন এবং সরকার গঠনের জন্য সময় পাবেন ২৮ দিন (প্রয়োজনে যা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে)।

যদিও ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি—নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আইজেনকোটের চার দলীয় জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। দীর্ঘদিনের মিত্র আল্ট্রা-অর্থোডক্স ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ পার্টি কাউকে সমর্থন না দেওয়ায় নেতানিয়াহু জোট বড় ধাক্কা খেয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো সময় আবারও বিমান হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের চরম বিপর্যয়ের পর ঘনিষ্ঠ মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রাক্কালে নেতানিয়াহু ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানে একটি বিশেষ অভিযানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে তা আটকে দেয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় লেবাননে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত জড়ায় ইসরায়েল।

এমনকি ২০২৪ সালে বাসার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলও নতুন করে দখল করে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার দোলাচালে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইসরাইল।