চলে গেলেন উপমহাদেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কমলা ভাসিন। শেষ হলো ভারতীয় নারী অধিকার আন্দোলনের এক উজ্জ্বল প্রজন্মের গল্প। ৭৫ বছর বয়সী এই কবি ও গবেষক বেশ কিছুদিন ধরেই অসুখে ভুগছিলেন। শুক্রবার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সময় রাতে পৌনে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে ভারতীয় নারী আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
ভারতের আরেক সমাজকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব এক টুইট বার্তায় এ খবর নিশ্চিত লেখেন, "আমাদের প্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর তিনটের সময় আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ভারতীয় নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে, তথা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেই এটা একটা বিরাট ধাক্কা। যতই প্রতিকূলতা আসুক তার বিরুদ্ধে কমলা লড়ে গিয়েছেন। আমাদের হৃদয়ে কমলা থাকবেন।"
সত্তরের দশক থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের অধিকার ও দাবিদাওয়ার আন্দোলন নিয়ে সোচ্চার ছিলেন কমলা। ২০০২ সালে তিনি 'সঙ্গত' নামের একটি ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কমলা প্রান্তিক আদিবাসী মহিলাদের প্রশিক্ষিত করার কাজ করতেন। এর পাশাপাশি লিঙ্গ তত্ত্ব, সমতা, মানবাধিকার, পুরুষতন্ত্র নিয়ে লেখা কমলার বইগুলি অন্তত ৩০ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
কাজের সুবাদে তিনি বাংলাদেশেও এসেছেন একাধিকবার। অনুপ্রাণিত করেছেন এদেশের নারী আন্দোলনকর্মীদের।
১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতের রাজস্থানে জন্মগ্রহণ করেন কমলা। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে কমলা চলে গিয়েছিলেন পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির ফাউন্ডেশন ফর ডেভলপমেন্ট ওরিয়েন্টেশন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাজ করে ভারতে ফিরে যান। লিঙ্গ সমতা, মানবাধিকার, রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য খুব কম বয়সেই কলম ধরেন তিনি। তার শক্তিশালী লেখনী সাহস জুগিয়েছে নিপীড়িত নারীদের মনে।
আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত তিন
গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠা কমলা খুব সহজেই প্রান্তিক মহিলাদের সমস্যার কথা বুঝতেন। জীবনটা তিনি কাটান ভারতের প্রান্তিক মহিলাদের হিতার্থে, নারীদের সমানাধিকারের কথা বলে।
বিজ্ঞাপনী পণ্যতে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা মুখ খুলেছেন কমলা।
একাত্তর/আরবিএস