ট্রুডোকে উন্মাদ বলে পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত বিরোধী নেতা

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দেওয়ার জেরে কানাডার বিরোধী দলীয় নেতা পিয়েরে পয়লিভেরকে পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর আমেরিকার দেশটিতে ‘হাউস অব কমন্স’ অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার অধিবেশন চলাকালে প্রধান বিরোধী দলের নেতা তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করায় দিনের বাকি অংশের জন্য তাকে পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেন স্পিকার গ্রেগ ফার্গাস। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রধান বিরোধী দলের নেতা পয়লিভের হাউস অব কমন্সে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রুডোকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই উন্মাদ প্রধানমন্ত্রীর এই উন্মাদ নীতির অবসান কবে হবে?’

এই বক্তব্যের পর স্পিকার গ্রেগ ফার্গাস বিরোধী নেতা পয়লিভেরকে বলেন, তার মন্তব্যটি অসংসদীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। এরপর তাকে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে চারবার আহ্বান জানান লিবারেল দলের এই স্পিকার।

কিন্তু পয়লিভের প্রতিবারই সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, এর পরিবর্তে তিনি চরমপন্থি বা মৌলবাদী শব্দটি ব্যবহার করতে চান।

এ পর্যায়ে স্পিকার ফার্গাস বিরোধী নেতা পয়লিভেরকে বলেন, তিনি স্পিকারের কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করছেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে আদেশ দিচ্ছি, আপনি হাউস থেকে চলে যান, দিনের অধিবেশনের বাকি অংশের জন্য।’

এরপর পয়লিভের এবং তার বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা অধিবেশন ছেড়ে চলে যান।

কানাডাতে আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেই নির্বাচনে মূলত এই দুই নেতার মধ্যেই প্রধান লড়াই হওয়ার কথা।

ট্রুডোর সঙ্গে পয়লিভেরের বেশ উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক। তাকে তিনি (ট্রুডো) একজন চরমপন্থি এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আন্দোলনের সমর্থক বলে অভিহিত করেছেন।

রয়টার্স জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলে থাকা কনজারভেটিভরা জরিপে বেশ এগিয়ে আছে এবং কার্বন ট্যাক্সের জন্য বিরোধী নেতা পিয়েরে পয়লিভের ক্ষমতাসীন লিবারেল সরকারকে নিয়মিত আক্রমণ করছেন। এর ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে বলেও সমালোচনা করছেন তিনি।

এর আগে, মঙ্গলবারের শুরুতে ট্রুডো সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এবং পয়লিভেরকে অতি ডান গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘তারা দায়িত্বশীল কোনও নেতৃত্ব নয়। তারা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক, তারা কানাডিয়ানদের জন্য বিপজ্জনক।’

অবশ্য কানাডার পার্লামেন্ট থেকে এভাবে কাউকে বের করে দেওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল।

কানাডার পরবর্তী নির্বাচন ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনমতের সমীক্ষাগুলোতে কনজারভেটিভরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।