জনমত জরিপের সাথে সাথেই তহবিল সংগ্রহেও প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেললেন কমলা হ্যারিস। গত আগস্টে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের প্রায় চারগুণ তহবিল সংগ্রহ করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা।
পরিসংখ্যান বলছে, আগস্ট মাসে কমলা ৩৬ কোটি ১০ লক্ষ ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছেন। আর ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির সংগ্রহ মাত্র ১৩ কোটি ডলার। খবর দ্য গার্ডিয়ান’র।
আগস্টে কমলার ১৩ লক্ষ নতুন দাতার তিন-চতুর্থাংশই ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনও আর্থিক অনুদান দেননি। দাতাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই নারী। এমনকি, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন দাতা ঘোষিত রিপাবলিকান বা ‘দলহীন’ ব্যক্তি!
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পরিসংখ্যান বলছে, কমলার প্রচার তহবিলে মোট ৪০ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার জমা হয়েছে। ট্রাম্পের তহবিলে ২৯ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার। তবে, নভেম্বরের আগে চূড়ান্ত সময়ে দু’জনই বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠান ও অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আরও বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা ও ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের প্রচারাভিযানে কমলা ১৯০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছিল ১৭৪ মিলিয়ন ডলার। কমলা প্রচারকাজের বিজ্ঞাপনে খরচ করেন ১৩৫ মিলিয়নের বেশি ডলার।
আর আগস্টে ট্রাম্পের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪৩ মিলিয়ন ডলার। তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্রাম্পের সংগ্রহ ছিল ১৩৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে তিনি ৬১ মিলিয়ন খরচ করেছেন। এই খরচের ৪৭ মিলিয়নের বেশি ছিল বিজ্ঞাপনের খরচ।
হ্যারিস ও ট্রাম্প উভয়ের প্রচারণায় আগস্টে বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় হয়েছে বিজ্ঞাপনের পেছনে। এছাড়া মিছিল, ভ্রমণ ও প্রচারকর্মীদের বেতন দেয়ার জন্যও কিছু অর্থ ব্যয় হয়েছে। হ্যারিসের প্রচারণা দল ডেট্রয়েট ইউনিটি ফান্ডে ৭৫ হাজার ডলার অনুদান দেয়, যা মিশিগানের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে কাজ করে। মিশিগান এবারের নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য।
আগস্টের শেষে হ্যারিসের প্রচার তহবিলে ছিল ২৩৫ মিলিয়ন ডলার, যা মাসের শুরুতে থাকা অর্থের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রচার তহবিলে মাস শেষে অবশিষ্ট ছিল ১৩৫ মিলিয়ন ডলার।
অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের দিক থেকে হ্যারিস এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোর ভোটের ওপর। বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারি ক্লিনটনের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় করেও বিজয়ী হয়েছিলেন। ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোয় দুই প্রার্থীই সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন, যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।