ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক স্কুলে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহতের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকার রাজনীতি। নিহতদের বেশিরভাগ শিশু, এমন হৃদয়বিদারক খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রভাবশালী সেনেটররা পেন্টাগনের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছেন। এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, হামলা নিয়ে পরিস্কার ব্যাখ্যাও দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।
হাওয়াইয়ের সেনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ, ওয়াশিংটনের প্যাটি মারে এবং ভার্জিনিয়ার মার্ক ওয়ার্নারসহ একদল জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তারা বলেন, মার্কিন সার্ভিস মেম্বাররা কঠোর নিয়মাবলির মাধ্যমে পরিচালিত হন। শিশুদের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে যুদ্ধের নিয়মাবলি বা ‘রুলস অফ এনগেজমেন্ট’-কে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেনেটরদের আশঙ্কা, হেগসেথের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যই কি এই মানবিক বিপর্যয়ের পথ প্রশস্ত করেছে?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার দায় অস্বীকার করে ইরানকে দায়ী করলেও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থার তথ্য বলছে অন্য কথা। স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্কুলটির ওপর একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলা চালানো হয়েছে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপে যে মিসাইলের অবশিষ্টাংশ দেখা গেছে সেটি একটি ‘টমাহক’ মিসাইল। উল্লেখ্য, চলমান এই যুদ্ধে কেবল মার্কিন বাহিনীই এই শক্তিশালী অস্ত্রটি ব্যবহার করছে। স্কুলটির ঠিক পাশেই ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের একটি নৌঘাঁটি অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্কুলে আঘাত হেনেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। হেগসেথ দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী কখনোই ইচ্ছাকৃত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে ১৭৫টি শিশুর নিথর দেহ এবং একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুল এখন বাইডেন-পরবর্তী ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কৌশলের ওপর বড় ধরণের নৈতিক প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ‘মিনাব ট্র্যাজেডি’ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কতটা আঘাত হানে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: আনাদুলু নিউজ