হার মানছে ট্রাম্পের দাদাগিরি, সংকটে বিশ্ব বাজার!

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জোট গঠন’-এর স্বপ্ন বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির নাভিশ্বাস উঠলেও, আমেরিকার মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে নারাজ। খবর রয়টার্স।

পারস্য উপসাগরের আগ্নেয়গিরি এখন টগবগ করে ফুটছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তাঁর মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী পাহারা দেওয়ার জন্য জাহাজ পাঠাতে হুকুম দিলেন, তখন বন্ধু দেশগুলো এক রকম কানে তুলা দিয়ে বসে আছে। সোমবার জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো নৌযান পাঠাচ্ছে না। ফলে ‘একলা চলো’ নীতিতে ট্রাম্প এখন বেশ কোণঠাসা।


রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি দেশগুলোর কাছে দাবি জানাচ্ছি,তারা এসে তাদের নিজেদের এলাকা রক্ষা করুক। কারণ এখান থেকেই তারা জ্বালানি পায়। ট্রাম্পের নজর মূলত চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনের দিকে।

বিশেষ করে চীনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, বেইজিং যদি সাহায্য না করে তবে চলতি মাসের শেষে তাঁর চীন সফর পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি ন্যাটো সদস্যদেরও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সাহায্যে না এলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে।


ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জাপানের শান্তিকামী সংবিধানের দোহাই দিয়ে জানিয়েছেন, জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অথচ জাপানের ৯৫ শতাংশ তেল আসে এই অঞ্চল থেকেই। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী ক্যাথেরিন কিং-ও সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, হারমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে তারা কোনো অবদান রাখছেন না।

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন কার্যত বন্ধ। দুবাই, দোহা এবং আবুধাবির মতো বড় বড় এয়ারপোর্টগুলো অচল হয়ে পড়ায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। লোহিত সাগরের পর এবার দুবাই বিমানবন্দরেও ড্রোনের আঘাতে জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিমানের জ্বালানি সংকটে থাইল্যান্ড ও চীন রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এপ্রিল থেকে ফ্লাইট কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


ট্রাম্প যখন বলছেন ইরান আলোচনায় বসতে মরিয়া এবং যুদ্ধের নাম দিয়েছেন ‘মজা’, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিবিএস নিউজকে কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, আমরা কোনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার প্রস্তাব দিইনি। যতদিন প্রয়োজন আমরা আত্মরক্ষা চালিয়ে যাব।

অন্যদিকে, ইসরাইল শুধু ইরানের ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সীমিত’ স্থল অভিযান শুরু করেছে। ফলে যুদ্ধের দাবানল এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সাথে সুর মেলাতে পারছে না স্বয়ং তাঁর মিত্ররাই। একদিকে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির নাভিশ্বাস, অন্যদিকে ড্রোনের আঘাতে বিপর্যস্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন শুধু আমেরিকার নিজের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।