ইরানের তেলের খনি ও রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে দেশটির ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইতিপূর্বেই দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, তবে কৌশলগত কারণে শুধু তেল পাইপলাইনের অংশটুকু অক্ষত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা চাইলে মাত্র পাঁচ মিনিটের নোটিশে পুরো দ্বীপটি গুঁড়িয়ে দিতে পারি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আমি আপাতত এটি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তবে ভবিষ্যতে কী হয় তা দেখা যাবে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত বা ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্পের এই হুমকির নেপথ্যে রয়েছে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার কৌশল। তাঁর মতে, তেহরান এখন মরিয়া হয়ে আলোচনা করতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে আপস করার মতো মানসিকতা এখনো তাদের তৈরি হয়নি। তবে ট্রাম্প আশাবাদী, ইরান এক সময় পিছু হটতে বাধ্য হবে।
ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান কোনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বলেন, যতদিন প্রয়োজন আমরা আত্মরক্ষা চালিয়ে যাব। ট্রাম্পকে এটা বুঝতে হবে, এটি একটি অবৈধ যুদ্ধ এবং এতে জয়লাভ করা অসম্ভব।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত শুক্রবার খার্গ দ্বীপে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে এক বিশাল নিখুঁত হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন মজুত কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কারসহ ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারের কথা মাথায় রেখে তেল অবকাঠামোতে আঘাত করা হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প শুধু হামলা নয়, বরং খার্গ দ্বীপটি সরাসরি দখলে নেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি হবে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে একটি ‘অর্থনৈতিক নকআউট’ পাঞ্চ। তবে দ্বীপ দখলে নিতে গেলে মার্কিন পদাতিক সেনা মোতায়েন করতে হবে, যা পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এখানে ঝুঁকি যেমন বড়, তেমনি সফল হতে পারলে পুরস্কারও বিশাল। তবে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ