হরমুজের নতুন সংকটে হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক

হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সকালে আয়োজিত এই বৈঠকে ইরানের সাথে চলমান আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় এই মুহূর্তটিকে অত্যন্ত সংকটময় হিসেবে দেখছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে অংশ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

এছাড়া সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান ড্যান কেইনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মূলত ইরান যদি আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়েই এই নীতি-নির্ধারণী আলোচনা হয়েছে।


ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরান কিছুটা চাতুর্য দেখানোর চেষ্টা করছে... তারা আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে চায়। কিন্তু তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না।

তবে ট্রাম্প এটিও উল্লেখ করেছেন, আলাপ-আলোচনা এখনো বন্ধ হয়নি এবং শনিবার শেষ হওয়ার আগেই বোঝা যাবে দুই পক্ষ কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না। মাত্র এক দিন আগেই ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে একটি সমাধান আসতে পারে।

চলতি সপ্তাহে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ট্রাম্প নিজে জেনারেল মুনির এবং ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে যা তারা বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি তেহরান।


আলোচনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ইরান কতটুকু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে এবং তাদের বর্তমান মজুত নিয়ে দুই দেশ যখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। এই সংকটের কারণে তেলের বিশ্ববাজার যেমন অস্থির হয়ে উঠেছে, তেমনি দুই দেশের মধ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কূটনৈতিক কোনো সাফল্য না আসে, তবে ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই অঞ্চলটি পুনরায় ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে। হোয়াইট হাউস বর্তমানে ইরানের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।