ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের তৈরি এক ‘বিস্ফোরক’ নীলনকশা এবার ভেস্তে দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তেহরানের শাসনব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সাজানো এই রক্তক্ষয়ী পরিকল্পনাকে সোজা ‘না’ বলে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোসাদের এই পরিকল্পনায় ছিল বেশ কয়েকটি নৃশংস ধাপ। এর প্রথম ধাপে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের গুপ্তহত্যা বা সরাসরি নিশ্চিহ্ন করা। এরপর সেখানে ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষা করবে, এমন এক বিকল্প নেতৃত্বকে বসানোর ছক কষেছিল মোসাদ। শুধু হত্যাকাণ্ডেই ক্ষান্ত নয়, ইরানের ভেতরে কুর্দি আন্দোলনকে উসকে দিয়ে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ তৈরির মাধ্যমে পুরো দেশটিকে অস্থিতিশীল করার স্বপ্ন দেখেছিল ইসরায়েল।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, মার-এ-লাগোতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় প্রাথমিক সায় দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যপট বদলে যায় যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এতে বাধ সাধেন। মধ্যপ্রাচ্যের দাবার বোর্ডে এমন ঝুঁকিপূর্ণ চাল দেয়ার বিরোধী ভ্যান্সের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে থমকে গেছে মোসাদের ‘তখত পাল্টে’র সেই গোপন পরিকল্পনা।
ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, সামরিক সেন্সরশিপের কড়াকড়ির কারণে তারা এতদিন এই সংবাদের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেনি। সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক সেন্সরের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই গোপন নথি জনসমক্ষে আনা সম্ভব হলো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানি নেতৃত্বকে টার্গেট করার এই নেশা ইসরাইলের দীর্ঘদিনের। এর আগে এহুদ ওলমার্টের সরকারের সময়েও মোসাদের তৎকালীন প্রধান মীর দাগান বর্তমান ব্যবস্থার ভেতর থেকেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের এমন প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।
সংবাদপত্রটির এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট, তেহরানকে কবজা করতে ইসরাইল যত বড় ঝুঁকি নিতেই প্রস্তুত থাকুক না কেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসন এখনই এমন কোনো আত্মঘাতী এবং বিধ্বংসী ‘অপারেশনে’ জড়াতে রাজি নয়। মোসাদের সাজানো এই ‘স্পাই থ্রিলার’ আপাতত হোয়াইট হাউসের আপত্তিতে ফাইলবন্দি হয়েই রইলো।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর