মোজতবা খামেনির সঙ্গে ট্রাম্পের খাতির জমে উঠছে!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের বারুদ আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনের মাঝেই এবার এক অবিশ্বাস্য ও চটকদার রাজনৈতিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সাথে নিজের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন-ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যাকে একবারের জন্যও জনসমক্ষে দেখা যায়নি, সেই রহস্যময় ইরানি প্রধানের সাথে নাকি তাঁর বেশ চমৎকার খাতির জমে উঠেছে!

নিউ ইয়র্ক পোস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানের এই নতুন ও অন্তরালবাসী সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ চটকদার ভঙ্গিতে ট্রাম্প জবাব দেন, আমি তো শুনছি ওনার অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করে বলেন, চারদিকের গুঞ্জন যদি বিশ্বাস করতে হয়, তবে ওনার শরীরের, বুঝতেই পারছেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশই নাকি খোয়া গেছে!

Iran war
উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরানের ওপর চালানো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের যে ঝাঁক আলফা অলআউট হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যা করেছিল, সেই একই হামলায় তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিও গুরুতরভাবে জখম হয়েছিলেন বলে তীব্র গুঞ্জন রয়েছে।

জনসমক্ষে না আসা একজন গুরুতর আহত নেতা কীভাবে পুরো দেশের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন. সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ রসিয়ে রসিয়ে বলেন, হুম, তারা (ইরানিরা) বলছে যে সব সিদ্ধান্ত নাকি ওনার অনুমোদন নিয়েই হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এভাবেই তো রাজত্ব চলছে। প্রথমে ওনার বাবা, তারপর উনি নিজে, আমার তো মনে হয় এটা এক ধরণের রাজকীয় উত্তরাধিকার প্রথা! তবে যা-ই হোক, ওনার সাথে আমাদের বোঝাপড়া কিন্তু বেশ ভালোই চলছে।

Donald Trump 05
আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টের সাথে ইরানের কট্টরপন্থী সর্বোচ্চ নেতার এমন 'মধুর' সম্পর্কের গল্প এর আগে কখনো আন্তর্জাতিক মহল শোনেনি, তাও আবার দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে!

কথার শেষে ট্রাম্প তাঁর চিরচেনা চমকপ্রদ স্টাইলে আরও জানিয়ে রেখেছেন, পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে তিনি স্বশরীরে এই অদৃশ্য আয়াতুল্লাহর সাথে সরাসরি সাক্ষাতও করতে চান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের এই ‘চমৎকার খাতির’ কি আসলেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, নাকি এটি শুধুই ইরানি প্রশাসনকে খোঁচানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক খেলা!

তথ্যসূত্র: সিএনএন