ইরানের সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার হুমকি এড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে তুরস্ক থেকে একটি নজিরবিহীন ও গোপন সামরিক ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে পথে যাত্রা করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি নতুন বিমানে আনকারায় পৌঁছানোর পর, ট্রাম্প হঠাৎ করেই ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করবেন। তবে আনকারা বিমানবন্দরে ক্যামেরার সামনে পুরনো বিমানটিতে ওঠার পরপরই চুপিসারে ট্রাম্পকে ক্যাটারিং ট্রাকে করে গোপনে আরেকটি ছোট বিমান সি-৩২এ (C-32A)-তে স্থানান্তরিত করা হয়।
মূল এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিকে একটি ভুয়া লক্ষ্যবস্তু বা 'ডিকয়' হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর কোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা যায়। ২০০০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তান সফরের সময় অনুরূপ একটি গোপন মিশনের আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখানে মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানকে খালি পাঠিয়ে তিনি একটি অলিখিত বিমানে যাত্রা করেছিলেন।
যুক্তরাজ্যের মাইল্ডেনহল বিমানঘাঁটিতে যাত্রাপথে বিশ্ববাসী ও বিমানে থাকা সাংবাদিকরা জানতেন ট্রাম্প সেই পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন। এমনকি বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের সুরক্ষার অজুহাতে জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প রসিকতা করে সাংবাদিকদের বলেন যে বিমানটি হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ একটি যাত্রায় ছিল।
দুটি বিমানই প্রায় কাছাকাছি সময়ে যুক্তরাজ্যে অবতরণ করার পর, ঠিক কীভাবে ট্রাম্পকে আবার সেই পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল তা পরিষ্কার না হলেও, রাত পৌনে ১১টায় তাকে পুরনো বিমানটির সিঁড়ি দিয়েই নেমে আসতে দেখা যায়।
সেখানে উপস্থিত সেনাদের সাথে কিছু সময় কুশল বিনিময় করে তিনি কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটির দিকে হেঁটে যান। পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছিল যে বিমানে থাকা অনেক হোয়াইট হাউস কর্মীও ভেবেছিলেন ট্রাম্প তাদের সাথেই ভ্রমণ করছেন।
এই গোপন অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেং এক বিবৃতিতে জানান যে ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন যে আমেরিকার শত্রুরা সবসময় প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখছে, তাই যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় তাদের সব ধরণের পদক্ষেপ নিতে হয়।
উল্লেখ্য, বোয়িং কোম্পানি তাদের পরবর্তী প্রজন্মের এয়ার ফোর্স ওয়ান সরবরাহ করতে বিলম্ব করায়, কাতারের দেওয়া এই বোয়িং ৭৪৭ বিমানটিকে সাময়িকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ন্যাটোর এই সফরটিই ছিল বিমানটির প্রথম আন্তর্জাতিক যাত্রা, এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান তুরস্কের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এনে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই অবিশ্বাস্য ছদ্মবেশের কৌশল গ্রহণ করে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স