বলিভিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে জোড়া বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনটি লাশ উদ্ধারের পর সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মৃত্যুর এই নতুন তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
নিহত ৯ জনের সবাই সেনাসদস্য, যাদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট এবং বাকি আটজন বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালনকারী তরুণ সেনাসদস্য ছিলেন।
গত শুক্রবার দেশটির রাজধানী লা পাজ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ভিয়াচা শহরের একটি সেনা ব্যারাকে পরপর দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যারাকটিতে বাজেয়াপ্ত করা অবৈধ আতশবাজি, গ্রেনেড এবং শক্তিশালী টিএনটি-ভিত্তিক মারাত্মক বিস্ফোরক মজুত রাখা হতো।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় সামরিক ঘাঁটির বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্সেলা ফ্লোরেস জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণে অন্তত ৮৪ জন আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৩১ জন এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবারের তথ্যানুযায়ী, আরও পাঁচজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। সেনা কমান্ডার হেক্টর আলারকন জানান, ওই ব্যারাকে প্রায় ২৪০ জন সেনা থাকতেন। তবে সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ সদস্যই বিভিন্ন কাজে ঘাঁটির বাইরে ছিলেন, যার ফলে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্তূপ সরানোর কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও দমকলকর্মীরা।
বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। তবে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় কৌঁসুলির কার্যালয় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও সুরক্ষাজনিত অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে সরকার অভ্যন্তরীনভাবে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করে কত পরিমাণ অবৈধ বিস্ফোরক ও বাজেয়াপ্ত আতশবাজি সেখানে মজুত করা হয়েছিল এবং এই গাফিলতির জন্য কারা দায়ী তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়।
দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। সোমবার তিনি জাতিকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘাঁটিতে থাকা অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক বিস্ফোরকগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফলে নতুন করে কোনো বিস্ফোরণের আশঙ্কা আর নেই।
তথ্যসূত্র: এএফপি