ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতনে পাঁচতলা ভবন ধসে সাতজনের করুণ মৃত্যুর পর সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিও ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ভবন ধসের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে গিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘোষণা দেন, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া পাশের ভবনটি মঙ্গলবার ভাঙার কাজ শুরু করা হবে।
দুর্ঘটনাকবলিত এই এলাকাটি শিক্ষার্থীদের পেয়িং গেস্ট ও হোস্টেল হাব হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি দিল্লির অবৈধ ও অনিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণের ওপর আবার নতুন করে আলো ফেলেছে।
ধসে পড়া ভবনটির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠামোটি বর্তমানে মারাত্মকভাবে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। এটিকে সাময়িকভাবে ধসের হাত থেকে রক্ষা করতে সামনে, পেছনে ও মাঝে ১৮ থেকে ২০টি লোহার গার্ডরেইল বা প্রপস দিয়ে ঠেক দিয়ে রাখা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে নোটিশ দিয়েছে। এমসিডি কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ার জানিয়েছেন, ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আগামী ১-২ দিনের মধ্যে সুপরিকল্পিত ও ধাপভিত্তিক উপায়ে এটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের আরও ৬টি ভবন ইতোমধ্যে সিলগালা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনটির অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। এতে কোনো প্রয়োজনীয় স্তম্ভ বা পিলার এবং বিমের সাপোর্ট ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবনের নিচতলাটি কোনো পিলার বা বিম ছাড়া গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ওপর একের পর এক অতিরিক্ত তলা যোগ করা হয়, যা পুরো ভবনের ভারবহন ক্ষমতা ও স্থায়িত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

সত্য নিকেতনের পুনর্বাসন কলোনিতে আদতে কেবল নিচতলা ও একতলা নির্মাণের অনুমতি ছিল। তবে সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা হয়েছিল চারতলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন, যা একটি ছেলেদের হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এমসিডি জানায়, ১৯৯০-এর দশকে প্রায় ৫৫ বর্গগজ জমির ওপর বেসমেন্টসহ এটি তৈরি হয়েছিল এবং এর কোনো অনুমোদিত নকশা ছিল না। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি ১৯৭০-এর দশকে তৈরি এবং এর বয়স প্রায় ৫০ বছর।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দিল্লির উপরাজ্যপাল সর্দার তারানজিৎ সিং সান্ধু পুরো শহরের সব পিজি ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর সব পিজি ভবনের অবকাঠামোগত অডিট শেষ করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব ভবন উচ্চতা ও তলা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে নির্মিত হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। তবে উপরাজ্যপাল ঢালাও সিলগালা অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন, যাতে অডিট চলার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হঠাৎ গৃহহীন বা আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ে।

অন্যদিকে, এমসিডি সোমবার এক জরুরি আদেশে তাদের সব জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের (বিল্ডিং) নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামো পরিদর্শন করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে। এই তথ্যগুলো আগামী ১০ দিনের মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে জমা দেওয়ার জন্য তৈরি এফিডেভিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে পরিচালিত এমসিডির এক জরিপে দিল্লির প্রায় ২৮ লাখ ভবনের মধ্যে মাত্র ১৯টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
