ইরানের ওপর নতুন করে বিস্তৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর আক্রমণ আরও তীব্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন ও নজিরবিহীন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে জড়িত একাধিক ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক এবং অন্তত ১৭টি বিশাল তেলবাহী জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’- এর অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ, সাইবার হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অর্থায়ন এবং দেশটির শক্তিশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর অর্থায়নের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।

ট্রেজারি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, সবশেষে এই পদক্ষেপটি ইরানের অবশিষ্ট অবৈধ সামুদ্রিক অবকাঠামোর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আঘাত। এর মাধ্যমে তাদের তেলের গোপন বিশাল বহর বা ‘শ্যাডো ফ্লিট’-কে প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের বেআইনি আয়ের শেষ বড় উৎসটি মার্কিন ট্রেজারি বন্ধ করে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

এর আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক ভেস্তে গেলে গত ১৪ জুলাই ইরানের সমস্ত সমুদ্রবন্দরে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ অবরোধ বা ব্লকেড আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আজকের নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল বিক্রির সম্ভাবনা আরও বড় ধাক্কা খেল।

ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের মাত্র ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে আটকা পড়ে আছে, যা বৈশ্বিক দৈনিক তেলের ব্যবহার (প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল)-এর তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ তেহরানকে নতুন করে চরম সংকট ও আন্তর্জাতিক আইসোলেশনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।