ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনার পাশে নেতানিয়াহু!

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জের ধরে এবার ব্রিটেনের চরম স্পর্শকাতর স্থান ফকল্যান্ড দ্বীপ ইস্যুতে বড় চাল চেলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

দ্য টেলিগ্রাফের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানা গেছে, নেতানিয়াহু তাঁর কূটনীতিকদের দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আর্জেন্টিনার সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানানো এবং ওই ভূখণ্ডের ওপর বুয়েনস আইরেসের 'ঐতিহাসিক যোগসূত্রের' স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় স্যান কার্লোসে ব্রিটিশ টাস্ক ফোর্স। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সম্প্রতি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনের’ মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। এতে দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়।

এর জেরে জেরুজালেমে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেটের মর্যাদা কমিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানকার অধিকাংশ কর্মীকে বহিষ্কার করে ইসরায়েল। এবার সেই কূটনৈতিক তিক্ততার রেশ গিয়ে পড়ল ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড দ্বীপ বা ‘মালভিনাস’ ইস্যুতে।

আর্জেন্টিনার কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইয়ের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। গত মাসে জাতিসংঘের এক অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের সরাসরি বিরোধিতা না করলেও এক সুচিন্তিত কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

২০২৪ সালে জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়ালে প্রার্থনা কারছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, যার সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জনগণ এই বিষয়টিকে যেভাবে দেখে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তারা যে কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ইসরাইল তার গুরুত্ব অনুধাবন করে। তিনি দুই দেশকে সরাসরি আলোচনায় বসার তাগিদ দেন।

ইসরাইলের এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উসকানিমূলক বলে মনে করছে লন্ডন। ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান হলো, ফকল্যান্ডের অধিবাসীদের সম্মতি ছাড়া এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না। বর্তমানে ফকল্যান্ডে বসবাসরত বাসিন্দারা শতভাগ ব্রিটেনের অধীনে থাকার পক্ষেই অনড়।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সময়টি ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত নাজুক। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ফকল্যান্ড নিয়ে নতুন করে কোনো সংঘাত সৃষ্টি হলে আমেরিকা হয়তো অন্ধের মতো যুক্তরাজ্যকে সমর্থন করবে না। এর পরপরই আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ফকল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধের আইনি লড়াই শুরু করেছে।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ লেখা একটি উসকানিমূলক ব্যানার তুলে ধরেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
যদিও লন্ডনে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস এ ধরনের কোনো সরকারি নির্দেশনার কথা অস্বীকার করেছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে হতবাক ব্রিটিশ প্রশাসন। ব্রিটেনের সাথে ইসরাইলের এই বৈরিতা আগামীতে বড় কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।