নোবেল না পেয়ে নরওয়ের ওপর চটলেন ট্রাম্প

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ মেটাতে ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ নরওয়ের ওপর বিষোদ্গার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির রাজধানী অসলোতে অবস্থিত নোবেল কমিটি তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ায় নরওয়েকে একটি ‘বাজে দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নরওয়ের কোনো অভিবাসীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবেন না।

রোববার মিশিগানের পোর্ট হিউরনে আয়োজিত এক রাজনৈতিক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প এই বিস্ফোরক ও বিতর্কিত বক্তব্য দেন। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতার পেছনে অভিবাসনকে দায়ী করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি অন্যান্য কিছু দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবেন, কিন্তু নরওয়ের কাউকে নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কারণ আমি নোবেল পুরস্কার পাইনি... তাই নরওয়ের কাউকে আমি এই দেশে দেখতে চাই না।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প চরম আক্রমণাত্মক হয়ে বলেন, প্রকৃতপক্ষে নরওয়ে একটি বাজে দেশে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্প এমন আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকেও তিনি নিজেকে নোবেল না দেয়াকে নরওয়ের ওপর একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছিলেন।

যদিও ট্রাম্পের এই ক্ষুব্ধ মন্তব্যের পর নরওয়ের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অভিবাসন নীতিতে কোনো পরিবর্তনের নির্দেশনা দেখা যায়নি। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস্পেন বার্থ ইদে সোমবার দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে নোবেল কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত এক প্রতিষ্ঠান। কাউকে নোবেল দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হাত নেই। আমরা বিষয়টি আবারও তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দিক থেকে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ আয়ের দেশগুলোর একটি হলো নরওয়ে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই নরওয়ের সার্বভৌম ওয়েলথ ফান্ড বা রাষ্ট্রীয় তহবিল রেকর্ড ১.৭৫ ট্রিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোন (প্রায় ১৮৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মুনাফা অর্জন করেছে।

এমন এক শীর্ষ অর্থনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দেশকে ট্রাম্পের কুৎসিত ভাষায় আক্রমণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স