ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্টে নিষেধাজ্ঞা ও তা সমর্পণের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বপরিবারে গোপনে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে পৌঁছেছেন পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তথা সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। বুধবার এক গোপন অভিযানের মধ্য দিয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মিয়ামি-ওপা লোকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাঁদের প্রবেশ ভিসা মঞ্জুর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রাজিলের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার কাছে পরাজিত হন কট্টর ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। হারের পর তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকা অবৈধ অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তের জের ধরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা বললেও সেই নির্দেশ অমান্য করে নাটকীয়ভাবে লাতিন আমেরিকার দুই দেশ পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তিনি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিও চিত্রে একটি গুলফস্ট্রিম জি-৪০০ প্রাইভেট জেট থেকে পরিবারসহ বলসোনারোকে নামতে দেখা যায়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে তারা প্রথমে উত্তর আর্জেন্টিনা সীমান্ত অতিক্রম করেন। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট জেটে চড়ে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরে বিরতি নিয়ে সরাসরি মিয়ামির উদ্দেশ্যে উড়াল দেন।
এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ নিয়ে আর্জেন্টিনা বা ইকুয়েডর সরকার এবং প্রাইভেট জেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাইরেস ফ্লাই’ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বোলসোনারোর এই আকস্মিক আমেরিকা যাত্রা দুই মহাদেশের সর্ববৃহৎ দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বোলসোনারো পরিবারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে তাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে ওয়াশিংটন। যদিও এই খবর রটার আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, বোলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ট্রাম্প এর আগেও দাবি করেছিলেন, বোলসোনারোর পরিবার ব্রাজিলে বিচার বিভাগীয় পীড়নের শিকার।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের বলসোনারোও একইভাবে বিচার এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরলে অভ্যুত্থানের চক্রান্তে যুক্ত থাকার দায়ে তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিনেটর হিসেবে মেয়াদ শেষ হলে ফ্লাভিও বোলসোনারোর আইনি সুরক্ষাও (ইমিউনিটি) উঠে যাবে। যদিও গত সোমবারই তিনি দাবি করেছিলেন, আমার দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই, আমি আমার পাসপোর্ট জমা দিয়ে আইনের মাধ্যমেই লড়াই করব। তবে সেই মন্তব্যের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গোপনে দেশ ছাড়ার ঘটনায় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তথ্যসূত্র: রয়টার্স