প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুপ্রতীক্ষিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। মার্কিন রাজনৈতিক ঐতিহ্যে এই নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন পুনর্বিন্যাস নয়, বরং প্রেসিডেন্টের সার্বিক কাজের ওপর জনগণের এক বড় ধরনের ‘রেফারেন্ডাম’ বা গণরায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং ১০০ আসনবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ সেনেটের ৩৫টি আসনে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া ফ্লোরিডা ও ওহাইও রাজ্যে যথাক্রমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেয়া শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদের জন্যও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট- উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে ক্ষমতা ধরে রাখা এবার সহজ হবে না:
প্রতিনিধি পরিষদ: প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার আরও মাত্র ৩টি আসন (বর্তমানে রিপাবলিকানদের ২১৮ এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪ আসন রয়েছে)।
সিনেট: সেনেটে বর্তমানে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে। তবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সেনেট নিজেদের দখলে নিতে নিট ৪টি আসন বেশি জিততে হবে। যদি আসন সংখ্যা ৫০-৫০ ব্যবধানে সমান হয়, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স টাই-ব্রেকিং ভোট দিয়ে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট যে দলের থাকেন, সাধারণত সেই দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে সাড়ে ছাব্বিশটির মতো আসন হারায়। ডেমোক্র্যাটরা যদি যে কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তবে ট্রাম্পের দেশীয় নীতি বাস্তবায়ন, বাজেট পাস এবং নতুন আইন প্রণয়ন থমকে যাবে।
প্রতিনিধি পরিষদ হারালে: ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন নির্বাহী সিদ্ধান্তের তদন্ত শুরু করতে পারবে এবং সরকারি অর্থায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে, যা পরবর্তীতে সরকার অচল হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
সিনেট হারালে: ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ (এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক), ক্যাবিনেট সদস্য অনুমোদন ও রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়ভার (জ্বালানি তেল, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা খরচ), গর্ভপাত অধিকার, অভিবাসন, এবং এআই ও ডেটা সেন্টারের মতো প্রযুক্তিগত উন্নয়নই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মার্কিন আবহাওয়া ও সময়ের ভিন্নতার কারণে স্থানীয় সময় মঙ্গলবারসন্ধ্যা ৬টা থেকে ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে ডাকযোগে দেয়া ভোট গণনার কারণে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু তিনি কতটা স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ৩ নভেম্বরের এই বহুল আলোচিত ভোটের ফলাফলের ওপর।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা