ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনের ৪১৩ জন নাগরিকের প্রাণহানির খবর জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিবিসি বলছে, ইসরাইলের হামলায় শনিবার থেকে প্রতিবেদনে লেখা পর্যন্ত ২৩০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হামাসের হামলায় ৭০০ বেশি ইসরাইলি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। এছাড়া দুই হাজার ১৫৬ জন ইসরাইলি আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটির প্রেস অফিস।
রোববার সন্ধ্যায় ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীসভা কমিটি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে, যাতে দেশটি সর্বাত্মক যুদ্ধে যেতে পারবে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
রয়টার্স বলছে, ইসরাইলের লাগাতার হামলায় গাজার ৮০ শতাংশ বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়েছে। গাজার পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ফোনে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মেসেজ দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তাদেরকে গাজার মধ্যবাগে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলকে ‘অতিরিক্ত সহায়তার’ ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানান, ইসরাইলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘দ্রুতই এই সহায়তা’ দেওয়া হবে।
এছাড়া হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের জন্য ‘অতিরিক্ত সহায়তার নির্দেশনা’ দিয়েছেন।
তাছাড়া ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ ইসরাইলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
বিবিসি বলছে, নেতানিয়াহু এখনও পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
এরমধ্যে ঋষি সুনাক জানিয়েছেন, ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ ইসরাইলের পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য। দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের পর ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের যে কোনো প্রয়োজনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে বিশ্বমত গড়তে ব্রিটেন কাজ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।