ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের ১০০তম দিন রোববার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬০ হাজার মানুষ।
গত বছরের ৭ অক্টোবর সীমান্ত ভেঙে ইসরাইলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল হামাস। সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে ওইদিন থেকেই গাজায় আকাশপথে অভিযান শুরু করে ইসরাইল। পরে স্থল অভিযানে নামে দখলদার বাহিনীর হাজার হাজার সৈন্য।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। গাজা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৬৫ জন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৪৩ জন।
ওই খবরে বলা হয়েছে, গাজার মোট ভবনগুলোর প্রায় ৪৫ থেকে ৫৬ শতাংশই ধ্বংস অথবা বড় আকারে ক্ষতির শিকার হয়েছে। গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৫টি আংশিকভাবে চলছে। ২১টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
গাজার ছোট্ট এই ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দ্বারস্থ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
কিন্তু গাজায় নিজেদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে কেউ থামাতে পারবে না বলে হুংকার ছেড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না... হগ না, অ্যাক্সিস অব এভিল না, কেউ না।
নেতানিয়াহু ‘অ্যাক্সিস অব এভিল’ বলতে হামাস, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
এদিকে ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজায় আট হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করার কথা জানিয়েছে। দেশটি এখন তাদের যুদ্ধ কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে কিছু সৈন্য তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং দক্ষিণে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।