রাত পোহালেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোদ্ধার বহু প্রতীক্ষিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশাল রামমন্দির। আর এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরেই নানা আয়োজন চলছে সেখানে।
অযোধ্যায় ‘মহোৎসব’ ঘিরে আঁকা হচ্ছে দেয়াল। স্কুল শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্যও হচ্ছে প্রস্তুত। নানা রঙে মিশিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সেজেছে অযোধ্যা।
চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সেই বহু প্রতীক্ষিত দিনটি সোমবারই। উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসব। এই উৎসব ঘিরে সেজে উঠছে রামনগরী অযোধ্যা।
ভারত জুড়ে ৭০টি শহরে মোট ১৬০টি প্রেক্ষাগৃহে মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখান হবে। দেশটির সাধারণ নির্বাচনের আগে আগে এই মন্দির উদ্বোধন করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তাঁর হাত দিয়ে রামলালার বিগ্রহে ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ হবে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আট হাজার মানুষ উদ্বোধনের সময়ে অযোধ্যায় উপস্থিত থাকবেন। যাবেন তারকা অতিথিরাও। ইতিমধ্যে অনেকে পৌঁছেও গিয়েছেন।
ধনসম্পদের দেবতা কুবের পায়ের ধুলো দিয়েছিলেন অযোধ্যায়। সূর্য নদীর তীরে রামের জন্মভূমির অদূরেই তিনি স্থাপন করেছিলেন এক শিবলিঙ্গ। এ কারণে হিন্দুদের কাছে অযোধ্যার গুরুত্ব অনেক।
পথে পথে রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্রে সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভক্তরা। অনেকেই দিনটি উপলক্ষে এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কোন কমতি রাখেনি আয়োজকরা।
সুদূর নেপাল থেকে আসা এক রাম ভক্ত বলেন, আমি নেপালের জনকপুর থেকে এসেছি। মনে হচ্ছে এই নগরীতে রাম যখন রাজা হয়েছিলেন, সে সময়ের মতো আনন্দ বিরাজ করছে। খুবই ভালো লাগছে।
তিনি আরও বলেন, শপথ নিয়েছিলাম, রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত কোন জুতো পরবো না। ৩১ বছর ধরে শুধু বাইসাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করছি আমি।
রঙে রঙে ছেয়ে যাচ্ছে অযোধ্যার প্রতিটি দেয়াল। শিল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন রামায়ণের ইতিহাস। রাম, সীতা, লক্ষণ আর রাবণের কাহিনি ফুটে উঠছে এসব শিল্পকর্মে।
নেপালের জনকপুর থেকে আসা সেই রামভক্ত বলেন, আমি অনেক খুশি দিনটি নিয়ে। দারুণ এক উৎসবের আয়োজন দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই খুব চমৎকার কিছু হতে চলেছে।
দিকে দিকে আলোর রোশনাইতে আলাদা করে নজর কাড়ছে অযোধ্যার গলি থেকে রাজপথ। এদিকে তারই মধ্যে নানান প্রান্ত থেকে রাম মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আসছে নানান উপহার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন অমিতাভ বচ্চনসহ বলিউডের নামজাদা অভিনয়শিল্পীরা। আরও যোগ দিতে পারেন অনুপম খের, জ্যাকি শ্রফ, অক্ষয় কুমার, মাধুরী দীক্ষিতের মতো মেগা তারকারা।
মন্দির নির্মাণে বড় অঙ্কের টাকাও দিয়েছেন অনুপম, হেমা এবং অক্ষয়। কয়েকদিন আগে মন্দিরের সিঁড়ি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে আলোচনায় আসেন জ্যাকি শ্রফ।
হাজারো ভক্ততে আপ্যায়নেও প্রস্তুতিতে নেই কোন কমতি। মনে হচ্ছে বনবাস শেষে রাম, সীতা আবার ফিরে আসছেন। তারই সাজ চলছে চারিদিকে। সবাইকে অনেক খুশি দেখাচ্ছে।
অযোধ্যা ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন এলাকায় দিনটিকে ঘিরে চলছে উৎসব উদযাপনে প্রস্তুতি। আহমেদাবাদের কস্টিউমের দোকানে দীর্ঘ লাইন। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে এসেছে শিশুদের পোশাক কিনতে।
রাম কথার নানা চরিত্রকে অবলম্বন করে সাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীরা। সেখানেও হবে বিশাল এক অনুষ্ঠান। মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে অনেক রাজ্যে অর্ধদিবস অফিস ছুটির সঙ্গে স্কুলকলেজ ছুটি হয়েছে।
৩২ বছর আগে অযোধ্যার এই জায়গাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। বলা বাহুল্য, রামমন্দিরের উদ্বোধনীতে আমন্ত্রণ পাননি আমির, শাহরুখ এবং সালমান খান।
সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলবে মঙ্গলবার। সোমবার আমন্ত্রিত ছাড়া সাধারণ মানুষ মন্দিরে ঢুকতে পারবেন না। মঙ্গলবার থেকে সারাদিনে দু’বার রামমন্দিরের দরজা খোলা হবে সাধারণের জন্য।