পাকিস্তানের নির্বাচনে কোন দল পিছিয়ে, কারা এগিয়ে

পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এনিয়ে টানা তৃতীয়বার বেসামরিক সংসদে ভোট হচ্ছে দেশটিতে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রায় ২৪ কোটি পাকিস্তানি নতুন সরকার গঠনে তাদের রায় দেবেন। পাকিস্তানের এই নির্বাচনে তিন বড় দলের মধ্যে এগিয়ে কোন দল, আর কারা পিছিয়ে; থাকছে প্রতিবেদনে।

পাকিস্তানে এনিয়ে টানা তৃতীয়বার সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। যদিও দেশটির আগামী আটই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সামরিক হস্তক্ষেপে।

দেশটিতে এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নওয়াজ শরিফের পিএমএলএন। ২০১৩ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন তিনি। তবে দুর্নীতির অভিযোগে মেয়াদ শেষ করতে পারেননি তিনি। ২০১৭ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয় তাকে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন না। সে সময় তিনি ছিলেন জেলে।

নওয়াজ শরিফকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত করা হয় ২০২৪ সালের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে। দেশটির রাজনৈতিক কারণে নওয়াজ শরিফের চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় আসার পথটাকে প্রশস্ত করেছে ইমরান খানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান দূরত্ব।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খানের হাতে প্রতিষ্ঠিত পিটিআই। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসেন ইমরান। বর্তমানে কারাগারে থাকা ইমরানের বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা হয়েছে।

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন।

কিন্তু তার শাসনকালে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়, জিনিসের দাম বেড়ে যায় গণমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এসব প্রতিবন্ধকতার পরও দেশজুড়ে পিটিআইয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিষয়টি ইমরানের জন্য সুবিধা দিতে পারে।

বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ও তার বাবা আসিফ আলী জারদারির নেতৃত্বে মধ্য-বামপন্থী পাকিস্তান পিপলস পার্টি পিপিপি ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় ফিরে আসার চেষ্টা করছে।

বিলাওয়াল দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২২ সালে ইমরানের ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি ১১ দলীয় জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের পিডিএম এর শাসনামলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।