পাকিস্তানে সরকার গঠনে হিমশিম অবস্থা

ফলপ্রসূ নির্বাচনের পরে পাকিস্তানের দুটি প্রধান দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জোট সরকার গঠনে মতপার্থক্য মেটানোর চেষ্টায় আবারও বৈঠকে বসতে চলেছে।

রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার পঞ্চম বারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি আলোচনায় বসবে।

শেহবাজ শরীফের দলের একজন সিনেটর ইসহাক দার এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

রোববার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে ইসহাক দার বলেন, উভয় দল এখনও চূড়ান্ত কয়েখটি বিষয়ে একমত হতে পারছে না।

তিনি বলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, যেন রাজনৈতিক দলগুলি একটি জোট সরকার গঠন করতে পারে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি পার্টি পিএমএল-এনকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন ঘোষণা করে বলেছে, তারা শরীফকে সরকার গঠনের জন্য ভোট দেবে কিন্তু মন্ত্রিসভায় অবস্থান নেবে না।

৭২ বছর বয়সী পিএমএল-এন নেতা শেহবাজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য জোটের মনোনীত প্রার্থী করা হয়েছে। তার বিরোধী হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খান তার দলের নেতা ওমর আইয়ুবকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্ররা অপ্রত্যাশিতভাবে ৯৩ আসন জিতেছে। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য তাদের যথেষ্ট আসন ছিলো না। অন্যদিকে পিএমএল-এন ৭৫ ও পিপিপি ৫৪ আসনে জয় পায়।

মোট ২৬৬টি আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠনে কোনো এক দল বা জোটের প্রয়োজন ১৩৪টি আসন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সব দলদের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি শুরু হয়। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের করতে হবে।