আবগারি দুর্নীতি অর্থাৎ মদ নীতি কেলেঙ্কারির মামলায় গ্রেপ্তার ভারতের নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজতে থাকবেন তিনি। এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার রাতে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান। হাইকোর্টে আগাম জামিনের আর্জি খারিজের পরেই কেজরিওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ইডির সদর দপ্তরের লকআপে রাত কাটান তিনি। রাতে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি তাকে।
এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার জানাচ্ছে, ভারতের ইতিহাসে অরবিন্দ কেজরিওয়ালই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি পদে থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন।
এর আগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও গ্রেপ্তার করে ইডি। জমি দুর্নীতি মামলায় তাকে গত ৩১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের আগে হেমন্ত রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। তার পর ইডি তাকে গ্রেপ্তার করে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকাকালীন হেমন্ত কেজরিওয়ালের মতো হননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেজরিওয়ালের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তিনি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যে স্বাধীন ক্ষমতা ভোগ করেন, দিল্লি কিংবা পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীর তা নেই।
অন্যদিকে দিল্লিতে কেজরিওয়াল এবং কেন্দ্রের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মধ্যে ক্ষমতার টানাপড়েন তো আছেই।
সবশেষ গেলো বছরের ১১ মে ভারতের শীর্ষ আদালতের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিলো, আমলাদের রদবদল থেকে যাবতীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে দিল্লির নির্বাচিত সরকারের। তবে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা এবং ভূমি দফতর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতেই থাকবে।
১৯ মে আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অধ্যাদেশ জারি করে মোদি সরকার। অধ্যাদেশে বলা হয়, জাতীয় রাজধানী সিভিল সার্ভিসেস কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। আমলাদের নিয়োগ এবং বদলির ব্যাপারে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এসময় আপসহ অন্য বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা খর্ব করতে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকেও উপেক্ষা করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাছাড়া আপ সরকারের যে আবগারি নীতি নিয়ে এত বিতর্ক, এত অভিযোগ, সেই বিষয়ে প্রথম সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর সাক্সেনাই। ফলে কেজরির পথ খুব একটা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।