ভয়াবহ বন্যায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে চীন

চীনের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ গুয়াংডংয়ে কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট শতবর্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন আর ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে। খবর বিবিসি’র। 

রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ও অনলাইনের ফুটেজে বন্যায় প্লাবিত বিশাল ভূমি এবং উদ্ধারকারীদের কোমর-গভীর জলে লাইফবোটে করে লোকদের সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

বেশ কয়েকটি বড় নদীর তীর ফেটে গেছে এবং কর্তৃপক্ষ ‘বিপজ্জনকভাবে উচ্চ’ জলস্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সিনহুয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্লাবিত অঞ্চলের বাড়িঘরগুলোতে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: বিবিসি।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, উত্তর গুয়াংডংয়ের একটি নদীর স্তর সোমবার সকালে ‘শতবর্ষের সর্বোচ্চে’ প্রবাহিত হতে পারে, যদিও দুপুরের মধ্যে সেটা হয়নি।

গুয়াংডংয়ের বেশিরভাগ অংশ নিম্ন-স্থিত পার্ল নদীর ব-দ্বীপের অংশ, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঝড়বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। 

ব-দ্বীপ অঞ্চলটি চীনের একটি প্রধান ‘উৎপাদন অঞ্চল’ এবং দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। শুধুমাত্র গুয়াংডংয়ে প্রায় ১২৭ মিলিয়ন মানুষ বাস করে।

প্রাদেশিক রাজধানী গুয়াংজুর পাশাপাশি ছোট শহর শাওগুয়ান এবং হেয়ুয়ান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিংইয়ুয়ান শহরের বেইজিয়াং নদীর তীর ঘেঁষে বন্যার পানিতে গাছ ডুবে আছে। ছবি: বিবিসি/গেটি ইমেজ।

প্রদেশ জুড়ে প্রায় ১২ লাখ পরিবার গত সপ্তাহের শেষ থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলো। তবে তাদের ৮০ শতাংশ রোববার রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে শুরু করেছিলো।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে গুয়াংজুতে বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটগুলি বাতিল এবং বিলম্বিত হয়েছে। কমপক্ষে তিনটি শহরে স্কুল বন্ধ ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রদেশজুড়ে কয়েক ডজন বাড়ি ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ইউয়ান (১৯.৮ মিলিয়ন ডলার) এর সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি অনুমান করেছে।

কিংইয়ুয়ান শহরের একটি নদীর তীর ফেটে সংলগ্ন ঘাট ও রাস্তা প্লাবিত করেছে। অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, দ্রুত গতির উন্মত্ত স্রোতের তোড়ে দেয়াল এবং সেতু ভেঙে পড়ছে।

বন্যার পানির তোড়ে ভেঙ্গে পড়ছে সেতু। ছবি: বিবিসি।

একজন ওয়েইবো ব্যবহারকারী বলেছেন, তার পরিবার তাদের বাড়ির নিচতলা থেকে ওপরের তলায় ঝুঁকি নিয়েই আসবাবপত্র সরিয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির প্রথম তলার অর্ধেক প্লাবিত হয়েছে বলে রোববার রাতে ওই ব্যবহারকারী লিখেছেন। তাদের বাড়ির দ্বিতীয় তলাটিও রাতারাতি প্লাবিত হবে কিনা, তা নিয়েও ওই পোস্টে আশঙ্কা জানান তিনি।

আরেক ওয়েইবো ব্যবহারকারী জানান, আগের রাতে তিনি বাড়ি ফেরার সময় হাইওয়েতে প্রায় দেড়ঘণ্টা জলপ্রপাতের মতো বৃষ্টি হয়েছিল। সেসময় তিনি রাস্তাই দেখতে পাচ্ছিলেন না বলেও জানান তিনি।

একজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন এক উদ্ধারকারী। ছবি: বিবিসি।

এদিকে, গুয়াংডং এবং প্রতিবেশী ফুজিয়ানের উপকূলীয় এলাকায় অন্তত মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে বেইজিং, তিয়ানজিন ও হেইবেইসহ দেশের অন্যান্য অংশেও ‘মাঝারি থেকে ভারী’ বৃষ্টি হতে পারে।

গত জুলাইয়ে চীনের রাজধানী বেইজিং এবং হেইবেইসহ আশেপাশের প্রদেশে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে একের পর এক টাইফুন আঘাত হানে যা স্থলভাগে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে বন্যায় প্লাবিত করে। সে সপ্তাহে বেইজিং ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত প্রত্যক্ষ করেছিলো।