সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে এমনিতেই নাকাল অবস্থা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের। এর ওপর নতুন বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত চালের দাম।
তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার অভিনব পন্থা বের করেছে দেশটির সামরিক শাসকেরা। জান্তা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চালের গুদাম নিবন্ধন করতে জোর জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তারা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যারা ৫০ টন চাল বা পাঁচ হাজার বস্তার (প্রতিটি ২০ কেজি ওজনের) বেশি ধান সংরক্ষণ করবেন, তাদেরকে অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।
সারা দেশে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় কৃষিকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং কৃষি উপকরণের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা এবার জমি চাষ কম করেছে। তাই ধানের উৎপাদন তীব্র ভাবে হৃাস পাওয়ার আশঙ্কায় চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
একারণেই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয়েছে সরকার। নতুন নিয়মে, মজুদদারদের বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন নিতে হবে মিয়ানমার রাইস অনলাইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে জান্তা সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এতে দেশে ধান-চালের মজুদ কত, চাহিদা কেমন এবং রপ্তানিযোগ্য পরিমাণ কত তা নিশ্চিত করা যাবে।
প্রকাশ্যে এসব কারণ দেখানো হলেও, মূলত বাজারদর সরকারের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ এবং ভর্তুকির বিষয়টি যথাযথভাবে নিরূপণের জন্যই জান্তা সরকারের নতুন এই পপক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জান্তা সমর্থিত চাল ব্যবসায়ীদের সমিতি মিয়ানমার রাইস ফেডারেশন, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠে নেমে পড়েছে বলে ইরাবতি নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা শুক্রবারের মধ্যেই গুদাম মালিকদের নিবন্ধন সেরে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। আর যারা এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধনে ব্যর্থ হবেন, তারা যেন কারণসহ দ্রুত তা জানিয়ে দেন।
যারা সরকারের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাবধান করে দিয়েছে মিয়ানমার রাইস ফেডারেশন।
চাল বিক্রেতা ও মজুদদাররা গুদাম নিবন্ধন করেছে কিনা এবং নিবন্ধনে দেওয়া তথ্যগুলো সত্য কিনা সেসব যাচাই-বাছাইয়ের এরি মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেন্দ্র ও রাজ্যভিত্তিক কমিটি করে দিয়েছে বলেও ইরাবতির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতো মধ্যে গুদাম নিবন্ধন করার জন্য তোরজোড় শুরু করে দিয়েছে জান্তা সরকার। ইয়াঙ্গুনের একজন চালের ডিলার বলেছেন, তার মোকামে অভিযান চালানো হয়েছে। তখন জানতে চাওয়া হয়, গুদাম নিবন্ধন করা হয়েছে কিনা? আমরা বলেছি, এ নিয়ে কাজ চলছে। তখন জান্তা সরকারের সদস্যরা সাবধান করে দিয়েছে যে, তারা আবার অভিযানে আসবে।
সম্প্রতি চালের দাম বাড়ানোর অভিযোগ দেখিয়ে মিয়ানমারে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন চাল ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জান্তা সরকারের যুক্তি, এই ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দরে চাল বিক্রি করেছে।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন বিধি জারির পর ২৩ জুন পর্যন্ত ২১৩ বড় ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ের ৫১৩ জনসহ মোট ৭২৬টি গুদাম নিবন্ধিত হয়েছে।