ডুবে গেলো চীনের পরমাণু শক্তিচালিত অত্যাধুনিক সাবমেরিন 

চীনের পরমাণু শক্তিচালিত একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন ডুবে গেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। আর এ ঘটনা চীনা সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেও মনে করছেন তারা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেন্টাগনের ব্কে কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, সম্ভবত চলতি মাসের মে জুনের কোনো এক সময় ওই ডুবোজাহাজটি ডুবে যায়। তোলা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখে এমনটাই ধারণা মার্কিন কর্মকর্তাদের। 

মার্কিন কর্মকর্তাদের ফাঁস করা নথিতে বলা হয়েছে, চীনের উহানের কাছে উচাং শিপইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ওই যানটি ছিলো ‘ঝৌ' শ্রেণির প্রথম প্রজন্মের ডুবোজাহাজ।

উপগ্রহ চিত্রে সাবমেরিনটিকে উহানের বার্থে ভাসতে দেখা গেছে। সেখানে রয়েছে কয়েকটি উদ্ধারকারী ক্রেন। তবে সাবমেরিন ডুবে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছে বেইজিং। 

পরমাণু শক্তিচালিত এই ডুবোজাহাজটি দিয়েই তাইওয়ান, জাপানের ওপর খবরদারি চালাতো চীন। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনের বড় শক্তি ছিলো এই সাবমেরিন। 

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম উপগ্রহের পাঠানো ছবিতে ডুবোজাহাজটি তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। পানি থেকে তোলার জন্য ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে- এ রকম উপগ্রহচিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। 

তবে শক্তিশালী সাবমেরিনটি হঠাৎ করে কীভাবে ডুবে গেলো, তা নিয়ে রহস্যের জট খোলেনি। ডুবোজাহাজটিতে পরমাণু জ্বালানি বা পরমাণু হামলাকারী ব্যালেস্টিক মিসাইল ছিল কি না, তা-ও জানা যায়নি। ডুবোজাহাজ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

দ্য ওয়ার জ়োন নামের মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সমুদ্রে যাত্রা শুরু করার আগে ডুবোজাহাজটিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের কিছু কাজ চলছিল। তখনই এর সলিলসমাধি ঘটে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ডুবোজাহাজটি উদ্ধার করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সমুদ্রে পরমাণু বিকিরণের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ঝৌ শ্রেণির সাবমেরিন তৈরিতে আনুমানিক এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ খরচ করেছিল চীন। 

বর্তমানে চিনের কাছে পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ছয়টি এবং ৪৮টি ডিজ়েলচালিত সাবমেরিন রয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। পেন্টাগনের দাবি, ২০২৫ সালের মধ্যে চিনা ডুবোজাহাজের বহর বেড়ে দাঁড়াবে ৬৫। আর ২০৩৫ সালে তা গিয়ে ঠেকবে ৮০টিতে।