রকেট লঞ্চারের চালকের আসনে কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার একটি চাঞ্চল্যকর ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশালাকার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার নিজে চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। রাজধানী পিয়ং ইয়ংয়ে সম্প্রতি আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে কিম এই অস্ত্রটিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সমরাস্ত্র হিসেবে দাবি করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সংবাদ সংস্থাগুলো প্রায়ই কিম জং উনের এমন নাটকীয় ছবি প্রকাশ করে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ভেতরে কিমের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং শত্রুপক্ষকে একটি কড়া সামরিক বার্তা দেয়া।

চলতি মাসে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন (পার্টি কংগ্রেস) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সময়টিতে দেশটির প্রচার যন্ত্র এবং সামরিক প্রদর্শনীগুলো সাধারণত কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

এই অস্ত্র প্রদর্শন এমন এক সময়ে ঘটল যখন উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন আক্রমণে রাশিয়াকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে। পিয়ং ইয়ং ইতোমধ্যে মস্কোকে হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তারা যে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে, তা পিয়ং ইয়ংয়ের অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের কৌশলকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।

প্রদর্শনীতে ৬০০ মিলিমিটার রকেট সিস্টেমের মোট ৫০টি বড় ক্যারিয়ার সারিবদ্ধভাবে প্রদর্শন করা হয়। প্রতিটি গাড়িতে পাঁচটি করে রকেট টিউব ছিল। কিম জং কালো জ্যাকেট পরে মঞ্চে আসেন এবং একটি মোবাইল মিসাইল লঞ্চারে উঠে বসেন। তাকে বেশ হাসিখুশি মুখে চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়।

কিম দাবি করেন, এই ৬০০ মিলিমিটার রকেটগুলো আকারে সাধারণ রকেট লঞ্চারের দ্বিগুণ এবং এগুলো স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই শক্তিশালী। বিশেষ করে এই রকেটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত গাইডেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ছবি: সংগৃহীত
কিম বলেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কাছে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা নেই। এটি আধুনিক যুদ্ধের ধারণা এবং কামানের ভূমিকা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

২০২২ সালের শেষের দিকেও উত্তর কোরিয়া এই ধরনের রকেট সিস্টেম প্রদর্শন করেছিল। তখন দাবি করা হয়েছিল যে, এই রকেটগুলোর আওতায় পুরো দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে এবং এতে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রও যুক্ত করা সম্ভব।

ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক রান্ড কর্পোরেশের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের শক্তিশালী কামান ও রকেট ব্যবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মতোই বিপজ্জনক। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, যদি উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ৬,০০০ বড় কামান থেকে সিউলের মতো জনবহুল এলাকায় হামলা চালায়, তবে এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন নবম পার্টি কংগ্রেসের প্রাক্কালে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে কিম জং উন ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে আরও নতুন সামরিক সরঞ্জাম উন্মোচন করা হতে পারে। তিনি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অস্ত্র নির্মাতাদের কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।

তথ্যসূত্র: সিএনএন