জাপানের দক্ষিণ অঞ্চলের মূল দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সমুদ্রের নিচে এই শক্তিশালী কম্পনের উৎপত্তি হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানা এ তাকাইচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লোকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় ১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার অধিবাসীদের দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ার এবং সরকারের জরুরি উচ্ছেদ নির্দেশিকা মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, বেশ কিছু স্থানে ইতিমধ্যেই এই উচ্চতার সুনামির ঢেউ পৌঁছাতে শুরু করেছে।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে সরকার জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানবজীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ভূমিকম্পের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু বা বড় কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি।
ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে জাপান সরকার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি, এই সাতটি প্রিফেকচারে জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছে।
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ের ওপর চারটে বড় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। বিশ্বজুড়ে ঘটা মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই এই ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দ্বীপাঞ্চলে ঘটে থাকে।
সম্প্রতি জাপানে ভূকম্পনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৫ জুন দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানলেও তাতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এছাড়া চলতি বছরের ২০ এপ্রিল দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যাতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন এবং টোকিওর বড় বড় ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। ২০১১ সালে জাপানে ৯.০ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূকম্পন ও সুনামির সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে প্রায় ১৮,৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও জাপানিদের তাড়া করে ফেরে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি