সীমান্ত বিরোধ নিয়ে চীন-ভারত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

ভারত ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগেই মঙ্গলবার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

অজিত দোভাল ও ওয়াং ই হলেন ভারত-চীন সীমান্ত আলোচনার জন্য নিজ নিজ দেশের নির্ধারিত 'বিশেষ প্রতিনিধি'। ভারত ও চীনের মধ্যকার ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ২০০৩ সালে এই বিশেষ প্রতিনিধি মেকানিজমটি চালু করা হয়েছিল।

India-Chaina Border 02
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই কাঠামোর মাধ্যমে পুরো সীমান্ত বিরোধ মেটানো সম্ভব না হলেও, দুই দেশের মধ্যে প্রায়শই তৈরি হওয়া সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে এটি একটি অত্যন্ত দরকারী ও কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর আগে গত বছরের আগস্টে এই আলোচনার ২৪তম পর্ব সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দুই দেশই বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়।

দুই দিনের সফরে সোমবার চীনে পৌঁছানো অজিত দোভাল ওয়াং ই’র সঙ্গে আলোচনার আগে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী সম্মতির আলোকেই এই আলোচনা এগিয়েছে।

বৈঠকে প্রধানত সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

India-Chaina Border 01
২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং পূর্ব লাদাখে টানা সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের পর থেকে নয়া দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মুখে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে দুই পক্ষই সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে অরুণাচল প্রদেশ ও সীমান্ত কেন্দ্রিক মতপার্থক্যগুলো এখনো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিশেষ প্রতিনিধিদের এই বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের প্রধান আলোচনার প্ল্যাটফর্ম।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের সরাসরি দিনক্ষণ তিনি নিশ্চিত না করলেও, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। উল্লেখ্য, মোদী ও শি জিনপিং সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস