ভারত ও চীনের শীতল হতে থাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। টানা সাত বছর পর আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশাল একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সশরীরে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
২০২০ সালে দুই দেশের বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে প্রাণঘাতী সেনা সংঘর্ষের পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল। তাই এই সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য উপস্থিতি ব্রিকসের নিজস্ব এজেন্ডার চেয়েও ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত হিসেবে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্রের খবর, শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে চীনা কর্মকর্তারা ভারতে হোটেল বুকিং ও নিরাপত্তা প্রটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সফরটি নির্ধারিত হলে শি জিনপিংয়ের সাথে প্রায় ৪০০ জন চীনা কর্মকর্তার একটি বড় প্রতিনিধি দল ভারতে আসতে পারে, যা ২০১৯ সালের সম্মেলনের তুলনায় দ্বিগুণ।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অচিহ্নিত সীমান্ত রয়েছে। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও ৪ জন চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর চার বছর ধরে সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি নির্দিষ্ট সেনা প্রত্যাহার চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয়।
তবে অতি সম্প্রতি জুলাই মাসের শেষভাগে প্রত্যন্ত সীমান্তে আবারও দু’দেশের সেনা টহল মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে দিল্লি। এই পরিস্থিতির আবহেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বেইজিং সফর শুরু করেছেন, যেখানে তিনি সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে বৈঠক করছেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত ও চীন পরস্পর প্রতিযোগী হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর বাণিজ্য নীতি তাদের জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিক অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক চাপ যাতে ব্রিকস জোটের শক্তিকে দুর্বল করতে না পারে, শি জিনপিংয়ের এই ভারত সফর তারই একটি শক্তিশালী বার বার্তা বহন করছে।
চীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারতকে এই সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে সবরকম সহায়তা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা না করলেও, আন্তর্জাতিক মহল এই শীর্ষ সম্মেলনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানকে বাগে আনতে আমেরিকার নিশানায় চীন!
ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের আফগানিস্তান শাসনের চিত্র দেখাল বিবিসি