ইন্দোনেশিয়া সরকারের বহুল প্রচারিত ও কোটি কোটি ডলার বাজেটের 'বিনামূল্যের খাবার' কর্মসূচির অধীন বিতরণ করা খাবার খেয়ে নতুন করে কেন্দ্রীয় জাভায় ৭৭৭ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তীব্র খাদ্যা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক স্কুল অধ্যক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত তিন দিনের ব্যবধানে এই প্রকল্পের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংসদীয় তদারকি কমিটির তথ্যসূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পৃথক তিনটি স্থানে বিষাক্ত খাবার খেয়ে আরও ৯৫০ জন ইন্দোনেশীয় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অপুষ্টি দূরীকরণ ও শিশুদের পুষ্টিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বিগত বছরে ১২.৯৪ বিলিয়ন ডলারের এই সুবিশাল প্রকল্প চালু করলেও, শুরু থেকেই এটি দুর্নীতি, নিম্নমানের ব্যবস্থাপনা এবং দফায় দফায় গণখাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনায় কলঙ্কিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসঠিক উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং রান্না করা খাবার বিলম্বে সরবরাহ করার কারণেই বার বারবার এই ধরনের বিপর্যয় ঘটছে।
কেন্দ্রীয় জাভার লাসেম এলাকার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে গত বুধবার বিতরণ করা গ্রিল করা মুরগির মাংস খেয়ে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাব নিয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্কুলের অধ্যক্ষ জুহারতুক জানান, খাদ্য পরিবেশনের আগে তা পরীক্ষা করার সময় কিছু মাংস পিচ্ছিল ও নষ্ট পাওয়া গিয়েছিল। নষ্ট অংশগুলো সরিয়ে বাকি খাবার পরিবেশন করা হলেও রাত ৩টায় রান্না করা খাবার দুপুর ১২টায় খাওয়ানোর ফলে এই বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় চিকিৎসক জোকো পারিয়ান্তো জানিয়েছেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হলেও ১৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিয়োনো পার্লামেন্টে শুনানির সময় নিশ্চিত করেছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলো রে তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট রন্ধনশালাটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এছাড়া গত বুধবারে পূর্ব জাভার এনগানজুক শহরে ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম অঞ্চলে ২৩৭ জন নাগরিক আক্রান্ত হন।
পার্লামেন্ট সদস্য ও বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চার্লস হোনোরিস স্বাস্থ্য দপ্তরের ডাটা উল্লেখ করে জানান, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচির খাবারে বিষক্রিয়া হয়ে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা না বলে সামগ্রিক সরকারি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দেন। জুলাইয়ে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে সন্তুষ্ট, যার প্রধান কারণই হলো অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক খাদ্য বিষক্রিয়া।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স