অব্যাহত প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার কারণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এবং এর পার্শ্ববর্তী তিনটি অঞ্চলে দুই দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। রোববার এক জরুরি বৈঠকে আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার ও মঙ্গলবার) ব্যাংকক এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে সব সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বিশেষ ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের ব্যস্ততা ও গণপরিবহনের চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং দুর্ভোগ লাঘব করতেই এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রশাসনিক কাজকর্ম সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের বিবেচনা অনুযায়ী চালু রাখা যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের এই আকস্মিক সরকারি ছুটি ঘোষণার ফলে দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত বিতর্কিত ব্যালট পেপার সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল এই সময়ে।
আদালতের পক্ষ থেকে তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, দুদিনের সরকারি ছুটির কারণে এই ঐতিহাসিক রায়ের সময় পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পুরো নির্বাচনী ফলাফলকেই এক ধরনের নতুন সংশয় ও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, টানা ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১২ ইঞ্চি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে শনিবারই পুরো ব্যাংকক শহরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসন।
শহরের প্রধান প্রধান রাজপথগুলো এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে, বহু যানবাহন অর্ধেক নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে এবং থাইল্যান্ডের এই প্রাণবন্ত রাজধানী বর্তমানে এক নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার মুখোমুখি। একদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক-আইনি মামলার ঝুলন্ত সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে চরম সংকটে পড়েছে থাই প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স