থাইল্যান্ড, ভারত ও মিয়ানমারে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় শতাধিক নিহত

প্রকৃতির তাণ্ডবে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ। থাইল্যান্ড, ভারত এবং মিয়ানমারে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং প্রভাব পড়েছে কোটি মানুষের জীবনে।

মঙ্গলবার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলাদা প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হঠাৎ নেমে আসা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি দেশেরই জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

Asia Flood 01
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ ২৯টি প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যায় এ পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের মঙ্গলবার ভোরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬৭টি জেলা ও ৫,০৭৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত ৯ লাখ ৪০ হাজার পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ব্যাংককের সড়ক ও আবাসিক এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Asia Flood 02
অন্যদিকে, ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেকর্ড গড়ে সাধারণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে রাজ্যটির ৭৫টির মধ্যে ৫৬টি জেলা প্লাবিত হয়ে অন্তত ৮১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, ৬২ জন আহত হয়েছেন এবং ২,২৫৪টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

Asia Flood 05
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পায়নি প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারও। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় তানিনথার্য়ি অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিশেষ করে দাওয়েই জেলার থায়েতচাউং, লাউংলোন ও দাওয়েই শহর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে শত শত মানুষ পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণ কার্যক্রম।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি