ভিয়েতনামে বিড়াল চোরের ডেরায় পুলিশের হানা!

ভিয়েতনামের আবাসিক এলাকায় রাতের আঁধারে হানা দিয়ে প্রায় ২,৭০০ বিড়াল চুরি এবং জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক অপরাধী চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

সোমবার পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, হো চি মিন সিটিতে তৎপর এই বিড়াল চোর চক্রটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে বিড়ালের লোম ছাড়ানোর মেশিন, বিড়াল ধরার ফাঁদ এবং ওজন মাপার যন্ত্রসহ বিশাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে ভিয়েতনাম পুলিশ।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ হওয়ায় বহু রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যে এই মাংসের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি চলে। তবে দেশটির আইন অনুযায়ী মাংস বিক্রেতাদের কাছে পশুর বৈধ উৎসের প্রমাণপত্র বা সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। সেই সনদের তোয়াক্কা না করে চোরচক্রটি বাসা-বাড়ি ও আবাসিক এলাকা থেকে রাতারাতি হাজার হাজার বিড়াল চুরির ফাঁদ পাতত।

গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এই চুরি করা বিড়ালগুলো রেস্তোরাঁগুলোর কাছে প্রতি কেজি অন্তত ৭০ হাজার ডং (প্রায় ২.৭০ মার্কিন ডলার) দরে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। পুলিশের জেরা মুখে গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার বিড়াল চুরি ও পাচারের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছে।

ভিয়েতনামে বিড়াল চুরির এই ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকেও হো চি মিন সিটির পুলিশ পৃথক অভিযানে দুটি শক্তিশালী বিড়াল চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

তবে এক রাতে প্রায় ২,৭০০ বিড়াল চুরির এমন বিশাল ও লোমহর্ষক ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই পোষা প্রাণীপ্রেমী ও নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল শোরগোল ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-এএফপি