ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্যান-সুর-ম্যারের বিখ্যাত রেনোয়া জাদুঘর থেকে চার-চারটি অমূল্য চিত্রকর্ম চুরি করে নিয়ে গেছে একদল চোর। চুরি হওয়া এই শিল্পকর্মগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো (বা প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার)। তবে মিউনিসিপ্যাল পুলিশ ধাওয়া করলে চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার সময় জাদুঘরের বাগানে দুটি চিত্রকর্ম ফেলে রেখে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র ব্রায়ান ম্যাঁসো

মঙ্গলবার ভোরে ইম্প্রেশনিস্ট ঘরানার প্রখ্যাত ফরাসি চিত্রশিল্পী পিয়েরে-ওগ্যুস্ত রেনোয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই জাদুঘরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাটি ঘটে। ১৯১৯ সালে চিত্রশিল্পীর মৃত্যুর আগে এটিই ছিল তাঁর শেষ বাসস্থান, যা ১৯৬০ সালে জাদুঘর হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। শিল্পীর ব্যবহৃত ক্যানভাস, হুইলচেয়ারের পাশাপাশি তাঁর আঁকা অসংখ্য বিখ্যাত প্রতিকৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্য ও ভাস্কর্য রয়েছে এই জাদুঘরে।
জাদুঘরে চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অপরাধীরা স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে জাদুঘরের নিরাপত্তা অ্যালার্ম বেজে ওঠে। শহরের ভিডিও সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরায় অপরাধীদের দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

অ্যালার্ম বাজার মাত্র পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে মিউনিসিপ্যাল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে চোরেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করার সময় তাড়াহুড়ো করে জাদুঘরের বাগান ও সংলগ্ন পথে দুটি মূল্যবান চিত্রকর্ম ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
ফরাসি গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, চোরদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রেনোয়ার বিশ্বখ্যাত চারটি চিত্রকর্ম- ‘পোর্ট্রেট অব মাদাম পিশন’ (১৮৯৫), ‘পোর্ট্রেট অব মাদাম কোলোনা রোমানো’ (১৯১০), ‘কোকো লিসাঁ’ (১৯০৫), এবং ‘জোনে ফিল ও প্যু’ (১৮৮৬)। তবে ফেলে যাওয়া দুটি ছবির বাইরে শেষ পর্যন্ত চোরেরা কোন দুটি ছবি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চোরদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাটি প্যারিসের ঐতিহাসিক লুভ্র মিউজিয়াম থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের ৮টি অমূল্য রত্ন ও শিল্পকর্ম দিনের আলোয় চুরির মাত্র এক বছরের মাথায় ঘটল। যদিও পরবর্তীতে লুভ্র চুরির চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু উদ্ধার করা যায়নি চুরি যাওয়া ধনসম্পদ। এরই মাঝে রেনোয়া জাদুঘরের এই চুরি ইউরোপীয় শিল্পকলা নিরাপত্তার জন্য নতুন এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর-বিবিসি
