সরবরাহ কমানোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রাশিয়ার তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলার বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাজারে আসা রুশ এলএনজির অর্ধেকেরও বেশি কিনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউতে এলএনজি সরবরাহের প্রধান গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে স্পেন এবং বেলজিয়াম। চীনের পরে রুশ এলএনজির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৃহত্তম গ্রাহক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দেশ দু'টি।
দুর্নীতিবিরোধী গ্রুপ গ্লোবাল উইটনেসের সিনিয়র জীবাশ্ম জ্বালানী প্রচারক জনাথন নরোনহা-গ্যান্ট বলেন, ইউরোপের দেশগুলো এখন রাশিয়ার সিংহভাগ গ্যাস কিনেছে। ক্রেমলিনের রাজস্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্সগুলোর মধ্যে ইইউ একটি।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়া থেকে ইউরোপে পাইপলাইনের মধ্যমে গ্যাস সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে সারাবিশ্ব বেড়েছে সিলিন্ডারজাত এলএনজির সরবরাহ।
গ্লোবাল উইটনেস জানিয়েছে, ইইউ দেশগুলো ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২২ মিলিয়ন কিউবিক মিটার রাশিয়ান এলএনজি কিনেছে। ২০২১ সালে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটার।
জনাথন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেলের মতো গ্যাসেরও প্রভাব রয়েছে। উভয়ই ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়ন করেছে। প্রতিটি ইউরো মানে আরও রক্তপাত।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে যুদ্ধের নিন্দা করছে, আবার তারাই পুতিনের পকেট ভারী করছে।
এদিকে স্পেন এবং বেলজিয়াম বলেছে, একমাত্র তারাই রাশিয়ার গ্যাস কিনছে বিষয়টি এমন নয়, বরং তাদের বন্দরগুলো প্রধান গেটওয়ে হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে।
এর আগে গেলো বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার তেল ও কয়লা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপ। তবে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে নর্ড স্ট্রিম-১ ও নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ চালু ছিল। কিন্তু ডেনমার্কের অধীনে থাকা ব্রনহল্ম দ্বীপের কাছাকাছি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাইপলাইন দু'টি।
এ হামলার জন্য ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যকে দায়ি করে মস্কো। এর পরপরই পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয় পুতিন প্রশাসন।