ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমিতে একটি হাসপাতালে দুই দফা রুশ ড্রোন হামলায় ৯ জন নিহত ও আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে প্রথম দফায় রুশ ড্রোন ভবনটিতে আঘাত হানে। এরপর উদ্ধারকারীরা যখন লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছিল, তখন আবার আঘাত হানা হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
হামলায় হাসপাতালের বেশ কয়েকটি ফ্লোর ধ্বংস হয় এবং আগুনের সূত্রপাত হয়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা ডিএসএনএস বলছে, হামলার পর ১২২ জনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি’র।
ডিএসএনএস জানায়, সুমির সেইন্ট প্যানটেলিমন হাসপাতালে শাহেদ কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় কয়েক ডজন রোগী এবং কর্মচারী ভিতরে ছিলেন বলেও জানান তারা।
হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন নার্স এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসএনএস।
ডিএসএনএস আরও জানায়, হাসপাতালের চারতলা ভবনের তিনটি তলা এবং ছাদ আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। হামলার পর যে আগুন লেগেছে তা পরে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং এতে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী গত আগস্ট মাসে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে এক আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বেশকিছু বসতি দখল করে নেয়। এরপর থেকে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে রুশ হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) দূরে অবস্থিত অঞ্চলটি নিয়মিতই ড্রোন ও বোমা হামলার শিকার হচ্ছে।
এর আগে, রাতভর রাশিয়ার হামলায় ব্যবহৃত ৭৩টি ড্রোনের মধ্যে ৬৯টি ড্রোন তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছিল ইউক্রেনের বিমান বাহিনী। এ তালিকায় দুইটি ব্যালিস্টিক ও দুইটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল বলে জানায় তারা।
এদিকে, কিয়েভ শহর এবং তার আশপাশের এলাকায় ১৫টি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভের সামরিক প্রশাসন।