ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোতে পৌঁছেছেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসা এমন খবর নিয়ে সোমবার কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। মস্কোতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পেসকভ বলেন, আমরা এই ধরনের খবরের বিষয়ে কোনোভাবেই কোনো মন্তব্য করব না। খবর আনাদুল এজেন্সি।
বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন সংঘাতের এক হামলায় নিহত হন। এর পরপরই মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল উভয়েই মোজতবা খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।
এর আগে কুয়েতি সংবাদপত্র ‘আল-জারিদা’ খবর প্রকাশ করেছিল, মোজতবা খামেনি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আহত হয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মস্কোতে নেয়া হয়েছে। এই দাবির প্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নতুন নেতা হামলায় আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ভালো বোধ করছেন। তবে, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাঁর বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
পেসকভ এদিন তেহরানকে ড্রোন সরবরাহের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তোলা অভিযোগ নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি প্রশ্নটি জেলেনস্কির দিকেই ছুড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা কিয়েভ শাসনের প্রধানকে জিজ্ঞাসা করুন তিনি এই তথ্য কোথায় পেলেন। আমরা এই ধরনের বক্তব্যে কোনো মন্তব্য করি না।
ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পেসকভ জানান, রাশিয়া শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য উন্মুক্ত এবং আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে নতুন বৈঠকের স্থান ও তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
পেসকভ আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইউক্রেনই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা। তিনি বলেন, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে একটি চুক্তিতে আসার জন্য জোরালো পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁর এই বক্তব্য থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, ইউক্রেনীয় পক্ষই আলোচনার প্রক্রিয়ায় মূল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বেশ কয়েক দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর সেই প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে থমকে যায়।