মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া কর্তৃক ইরানকে ড্রোন সরবরাহের একটি প্রতিবেদনকে 'মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার মস্কো জানায়, সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচুর মিথ্যা প্রচার করছে এবং জনগণের সেদিকে কান দেয়া উচিত নয়।
প্রতিবেদনটিতে পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে ড্রোন, ওষুধ এবং খাদ্য সরবরাহের একটি পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া শেষ করার কাছাকাছি পৌঁছেছে রাশিয়া। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক দিন পরই দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই ড্রোন সরবরাহ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ইরানের ড্রোন সক্ষমতা ও মার্কিন হামলা: চলমান যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'শাহেদ' মডেলের ড্রোনগুলোকে। কম খরচে তৈরির সুবিধা ও কার্যকারিতার কারণে এগুলো মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরানের ১০ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছেন। এর ফলে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল উৎপাদন সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ এবং বড় জাহাজগুলোর ৯২ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে পেন্টাগন দাবি করছে।
ইরানের ঋণ শোধ করছে রাশিয়া: যদি ড্রোন সরবরাহের এই খবর সত্য হয়, তবে এটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, তেহরানকে ‘গেরান-২’ এবং 'শাহেদ-১৩৬' কামিকাজে ড্রোন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা মূলত ইরানের শাহেদ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করেই রাশিয়ার তৈরি।
এতদিন ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে আসলেও, বর্তমানে নিজেদের উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেহরানকে এখন মস্কোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এই শাহেদ ড্রোনগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
ইউক্রেন ইস্যু ও ক্রেমলিনের অবস্থান: ড্রোন ইস্যুর পাশাপাশি নিউইয়র্ক টাইমসের একটি মতামত নিবন্ধকেও প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় আগ্রহ হারিয়েছেন। এর জবাবে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতা বিবর্জিত একটি আবিষ্কার। আমরা এখনো আমেরিকার সাথে যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকেও নতুন এক জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।