ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতার সঙ্গে বাকযুদ্ধে এমবাপ্পে

ফ্রান্সের দুই জনপ্রিয় তরুণ মুখ, একজন ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং অন্যজন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উদীয়মান নক্ষত্র জর্ডান বারদেলা। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। এই বাকযুদ্ধ শুধু দু’ব্যক্তির লড়াই নয়, বরং অভিবাসন এবং ফরাসি পরিচিতি নিয়ে দেশটির বিভক্ত জনমতের এক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৭ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে প্যারিসের এক শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা থেকে উঠে এসেছেন, যেখানে বহু অভিবাসী পরিবারের বাস। বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ফরাসি ফুটবল দলের এই মুখ মঙ্গলবার ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কট্টর ডানপন্থী দল ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’র সম্ভাব্য জয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

Kylian Mbappe
এমবাপ্পে বলেন, মানুষ অনেক সময় ভাবে আমাদের টাকা বা খ্যাতি আছে বলে এসব সমস্যা আমাদের স্পর্শ করে না। কিন্তু আমার দেশের ক্ষমতায় যখন তাদের মতো (কট্টরপন্থী) কেউ আসে, তখন তার ফলাফল কী হতে পারে তা আমি জানি এবং এটি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এর আগেও ২০২৪ সালের ইউরো কাপ চলাকালীন আরএন’র উত্থানকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি।

এমবাপ্পের মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যম এক্সে পাল্টা জবাব দেন ৩০ বছর বয়সী আরএন চেয়ারম্যান জর্ডান বারদেলা। তবে তিনি সরাসরি রাজনীতি নিয়ে কথা না বলে এমবাপ্পের ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে খোঁচা দেন। বারদেলা লেখেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন পিএসজি ছেড়ে চলে যান তখন কী হয় তা আমি জানি: ক্লাবটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে এবং হয়তো খুব শিগগিরই দ্বিতীয়বারও জিতবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এমবাপ্পে পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেও তাঁর প্রাক্তন ক্লাবটি ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় করে, যা বারদেলা তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালেও বারদেলা এমবাপ্পেকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, কোটিপতি অ্যাথলেটের কাছে মানুষের জ্ঞান নেয়া লজ্জাজনক।

Jordan Bardella
বিশ্লেষকদের মতে, বারদেলার এই পাল্টা জবাব রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চতুর। কারণ পিএসজি ছাড়া এবং রিয়াল মাদ্রিদে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় ফ্রান্সে এমবাপ্পের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা ক্রীড়াতারকাকে আক্রমণ করা বারদেলার দলের ‘স্বাভাবিকীকরণ’ কৌশলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘লে মিলেনায়ার’-এর সদস্য উইলিয়াম থে।

বর্তমানে ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন বিরোধী মনোভাবের কারণে কট্টর ডানপন্থীদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। যদি এই গ্রীষ্মে আপিল আদালতে মেরিন ল্য পেনের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে, তবে আগামী নির্বাচনে জর্ডান বারদেলাই হবেন আরএন’র প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আসন্ন বিশ্বকাপে ফ্রান্স যখন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখন মাঠের বাইরের বিতর্ক দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এমবাপ্পের উদারনৈতিক মূল্যবোধ এবং বারদেলার কট্টর জাতীয়তাবাদের এই সংঘাত আগামী দিনে ফ্রান্সের নির্বাচনী বৈতরণীতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স