ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের পেচেনিহি গ্রামে রাশিয়ার এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবোভ জানান, সকালে গ্রামের একটি ব্যস্ত মোড়ে যেখানে পোস্ট অফিস, দোকানপাট এবং ক্যাফে ছিল, সেখানে হামলাটি চালানো হয়।
এতে কেবল ১০ জন নিহতই হননি, অন্তত ১৫টি গাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং ১০টি আবাসিক ভবনসহ ক্যাফে ও দোকান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া হামলাটিতে দুটি 'বান্ডেরোল' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
ঘটনার পরপরই সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সকালে রুশ বাহিনী পেচেনিহি গ্রামের একটি ব্যস্ত মোড়ে বর্বর হামলা চালিয়েছে। আবাসিক এই এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের চলাফেরা ছিল। আমরা নিশ্চিতভাবেই এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেব।
জাতিসংঘের ইউক্রেন বিষয়ক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে, তারা এই হামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে জুলাই মাসে বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা এক মাসেই প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মস্কোয় ইউক্রেনের সর্ববৃহৎ ড্রোন হামলা: প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কঠোর জবাব দেয়ার ঘোষণার মধ্যেই রাশিয়াও বড় ধরনের বিমান হামলার মুখে পড়েছে। মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী ও তার আশেপাশের অঞ্চল লক্ষ্য করে অন্তত ৬২০টি ড্রোন দিয়ে আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের চালানো অন্যতম বৃহৎ আকাশ হামলা হিসেবে এটিকে গণ্য করা হচ্ছে। ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং লজিস্টিক অবকাঠামো ধ্বংস করে মস্কোর যুদ্ধ করার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে এই পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে।
হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে উভয় দেশই শুরু থেকেই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করে আসছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স